পবিত্র ঈদুল আযহা আসতে এখনও কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকলেও সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কারেন্টের বাজারে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। গত কয়েক বছর ধরে ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে এই হাটটি পশুর কেনাবেচার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা পশুর সমারোহে বাজারটি এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে হাট ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে গরু ও ছাগল মজুদ রয়েছে। বিক্রেতারা জানান, হাটে আসা অধিকাংশ পশুই স্থানীয় খামারি ও সাধারণ কৃষকদের হাতে লালিত-পালিত। কোনো প্রকার ক্ষতিকর হরমোন ছাড়াই প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে বড় করা এসব পশুর প্রতি ক্রেতাদের বিশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় বিক্রেতারা তাদের পশুগুলোকে আকর্ষণীয়ভাবে সাজিয়ে বাজারে তুলছেন।
বাজারে পশুর সরবরাহ ভালো থাকায় দাম এখন পর্যন্ত ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, ঈদের অন্তত এক সপ্তাহ আগে কেনাবেচা পূর্ণ গতি পাবে। স্থানীয় একজন বিক্রেতা বলেন, তারা বাড়িতে দেশীয় খাবারে পশু পালন করেছেন এবং হাটে পশুর ভালো দাম পাচ্ছেন। ক্রেতারাও আস্থা রেখে সরাসরি পশু কিনছেন বলে তিনি জানান।
বাজারের ইজারাদার রুবেল মিয়া জানান, অন্যান্য হাটের তুলনায় কারেন্টের বাজারে হাসিল (টোল) আদায়ের হার কম হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে গরু-ছাগল নিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে ট্রাকযোগে অনেক পশু হাটে আসতে শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন এবং সাশ্রয়ী হাসিলে পশু ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য সবাইকে কারেন্টের বাজারে আসার আহ্বান জানান।
কোরবানির হাটকে ঘিরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, হাটের নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং নিয়মিত টহল বজায় রাখা হচ্ছে।
বিশম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবদুল মতিন খান বলেন, বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। জাল নোট ছড়াছড়ি, হয়রানি ও চাঁদাবাজি রোধে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর