ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

সৈয়দপুর শহরে তীব্র যানজট, বাড়ছে জনভোগান্তি


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১২ মে, ২০২৬ সময় : ৩:৫৫ পিএম

 নীলফামারী প্রতিনিধি:

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে যানজট সমস্যা। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, সড়কে অনিয়ন্ত্রিত ভারী যান চলাচল এবং ফুটপাত দখলের কারণে নগরজীবনে চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে কয়েক মাস আগে পৌর কর্তৃপক্ষ শহরের চারটি প্রবেশপথে ট্রাফিক কন্ট্রোলবার স্থাপন করে। দিনের বেলায় ভারী যানবাহন প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া হয়েছিল এ উদ্যোগ। পৌর প্রশাসকের নির্দেশনায় দিনের বেলায় ভারী মোটরযান যাতে শহরের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তবে বাস্তবে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অমান্য করে পণ্যবোঝাই ট্রাক, কাভার্ডভ্যান এমনকি দূরপাল্লার বাসও শহরের ভেতরে চলাচল করছে। এতে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে প্রায় সারাদিনই যানজট লেগে থাকছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত উচ্চতার ট্রাকগুলো প্রায়ই কন্ট্রোলবারে ধাক্কা দিয়ে অবকাঠামোর ক্ষতি করছে। ফলে একদিকে যেমন পৌরসভার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে যান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কন্ট্রোলবার বারবার সংস্কারে জনগণের করের টাকা ব্যয় হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়ক, দিনাজপুর রোড, রেলওয়ে গেট ও পাঁচমাথা মোড়ে দিনের বেশিরভাগ সময় তীব্র যানজট দেখা যায়। বিশেষ করে দুপুর ও সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সড়কের ওপর ট্রাক থেকে মালামাল ওঠানামা এবং যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখাকে যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সচেতন নাগরিকরা।

একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, দায়িত্ব পালনের সময় অনেক ট্রাফিক সদস্যকে পুলিশ বক্সে বসে থাকতে দেখা যায়। মাঠপর্যায়ে তদারকি কম থাকায় চালকরা সহজেই ট্রাফিক আইন অমান্য করছেন। ফলে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ।

স্থানীয়দের মতে, ট্রাফিক বিভাগ কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করলে এবং ফুটপাত হকারমুক্ত করা গেলে শহরের অন্তত অর্ধেক যানজট কমে আসবে। পাশাপাশি ভারী যানবাহনের জন্য বিকল্প রুট নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক মাহফুজ ইসলাম বলেন, নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অনেক সময় ভারী যানবাহন গোপনে শহরে প্রবেশ করে। আটক করতে গেলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে ট্রাফিক কন্ট্রোলবার আরও শক্তিশালী করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

সৈয়দপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, শহরে যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর