ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ওপর কি কোরবানি ওয়াজিব?


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১৫ মে, ২০২৬ সময় : ৬:৩৩ পিএম

পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানি মুসলিম উম্মাহর জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে হযরত ইবরাহিম (আ.) ও তার পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-এর আত্মত্যাগের স্মৃতিকে ধারণ করেই মুসলমানরা কোরবানি আদায় করে থাকেন। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে— ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি কি কোরবানি দিতে পারবেন বা তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে কি না।

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, কোরবানি প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমান নর-নারীর ওপর ওয়াজিব। কোরবানির জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া জরুরি। তবে যাকাতের মতো এখানে সম্পদের ওপর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়। জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কেউ নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেই তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।

ফিকহবিদদের মতে, কোরবানির ক্ষেত্রে ঋণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি যদি ঋণগ্রস্ত হন এবং ঋণের টাকা পরিশোধ করার পর তার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট না থাকে, তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে না। কিন্তু ঋণ পরিশোধের পরও যদি তার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থেকে যায়, তাহলে তাকে কোরবানি আদায় করতে হবে।

ইসলামি গবেষকরা জানান, কোরবানির নিসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে কিছু সম্পদ হিসাবের আওতায় আসে। এর মধ্যে রয়েছে নগদ টাকা, সোনা-রুপা, অলংকার, ব্যবসায়িক পণ্য, প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি, বাড়ি বা গাড়ি এবং অতিরিক্ত মূল্যবান আসবাবপত্র। তবে বসবাসের জন্য ব্যবহৃত বাড়ি, প্রয়োজনীয় পোশাক বা দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসপত্র সাধারণত নিসাবের হিসাবে ধরা হয় না।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, ইসলাম মানুষের সামর্থ্যের বাইরে কোনো বিধান চাপিয়ে দেয়নি। তাই কেউ যদি প্রকৃত অর্থেই আর্থিক সংকটে থাকেন এবং ঋণের বোঝায় জর্জরিত হন, তাহলে তার জন্য কোরবানি বাধ্যতামূলক নয়। আবার অনেকে ঋণ থাকলেও আর্থিকভাবে স্বচ্ছল থাকেন। সেক্ষেত্রে কোরবানি আদায় করতে হবে।

আলেমরা আরও বলেন, কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে আত্মত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর আনুগত্যের শিক্ষা অর্জনই মূল উদ্দেশ্য। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী ইবাদত পালন করাই ইসলামের শিক্ষা।

ইসলামি শরিয়তের বিভিন্ন গ্রন্থে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ‘আহসানুল ফাতাওয়া’, ‘বাদায়েউস সানায়ে’ এবং ‘ফাতাওয়া হিন্দিয়া’ গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, ঋণ পরিশোধের পর নিসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট থাকলে কোরবানি ওয়াজিব হবে, অন্যথায় নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানির আগে নিজের আর্থিক অবস্থা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা উচিত। প্রয়োজনীয় দেনা পরিশোধের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই উত্তম। পাশাপাশি কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য ও ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে সচেতন থাকাও জরুরি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর