ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ওপর কি কোরবানি ওয়াজিব?


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১৫ মে, ২০২৬ সময় : ৬:৩৩ পিএম

পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানি মুসলিম উম্মাহর জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে হযরত ইবরাহিম (আ.) ও তার পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-এর আত্মত্যাগের স্মৃতিকে ধারণ করেই মুসলমানরা কোরবানি আদায় করে থাকেন। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে— ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি কি কোরবানি দিতে পারবেন বা তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে কি না।

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, কোরবানি প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমান নর-নারীর ওপর ওয়াজিব। কোরবানির জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া জরুরি। তবে যাকাতের মতো এখানে সম্পদের ওপর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়। জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কেউ নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেই তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।

ফিকহবিদদের মতে, কোরবানির ক্ষেত্রে ঋণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি যদি ঋণগ্রস্ত হন এবং ঋণের টাকা পরিশোধ করার পর তার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট না থাকে, তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে না। কিন্তু ঋণ পরিশোধের পরও যদি তার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থেকে যায়, তাহলে তাকে কোরবানি আদায় করতে হবে।

ইসলামি গবেষকরা জানান, কোরবানির নিসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে কিছু সম্পদ হিসাবের আওতায় আসে। এর মধ্যে রয়েছে নগদ টাকা, সোনা-রুপা, অলংকার, ব্যবসায়িক পণ্য, প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি, বাড়ি বা গাড়ি এবং অতিরিক্ত মূল্যবান আসবাবপত্র। তবে বসবাসের জন্য ব্যবহৃত বাড়ি, প্রয়োজনীয় পোশাক বা দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসপত্র সাধারণত নিসাবের হিসাবে ধরা হয় না।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, ইসলাম মানুষের সামর্থ্যের বাইরে কোনো বিধান চাপিয়ে দেয়নি। তাই কেউ যদি প্রকৃত অর্থেই আর্থিক সংকটে থাকেন এবং ঋণের বোঝায় জর্জরিত হন, তাহলে তার জন্য কোরবানি বাধ্যতামূলক নয়। আবার অনেকে ঋণ থাকলেও আর্থিকভাবে স্বচ্ছল থাকেন। সেক্ষেত্রে কোরবানি আদায় করতে হবে।

আলেমরা আরও বলেন, কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে আত্মত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর আনুগত্যের শিক্ষা অর্জনই মূল উদ্দেশ্য। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী ইবাদত পালন করাই ইসলামের শিক্ষা।

ইসলামি শরিয়তের বিভিন্ন গ্রন্থে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ‘আহসানুল ফাতাওয়া’, ‘বাদায়েউস সানায়ে’ এবং ‘ফাতাওয়া হিন্দিয়া’ গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, ঋণ পরিশোধের পর নিসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট থাকলে কোরবানি ওয়াজিব হবে, অন্যথায় নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানির আগে নিজের আর্থিক অবস্থা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা উচিত। প্রয়োজনীয় দেনা পরিশোধের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই উত্তম। পাশাপাশি কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য ও ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে সচেতন থাকাও জরুরি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর