ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

১০ হাজারের বেশি স্কুলে নেই খেলার মাঠ: সেমিনারে উদ্বেগ


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১৫ মে, ২০২৬ সময় : ৬:৫৪ পিএম

দেশে ১০ হাজার ৭৪০টি স্কুলে কোনো খেলার মাঠ নেই বলে সেমিনারে জানানো হয়েছে। বক্তারা বলেন, মাঠ না থাকায় শিশুরা শারীরিক খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, ফলে মুঠোফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্তি বাড়ছে। এর প্রভাব তাদের মানসিক বিকাশে পড়ছে এবং অনেক শিশু সৃজনশীল কাজে অংশ নিতে পারছে না।

শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে শিশু–কিশোর সংগঠন খেলাঘর আসরের আয়োজিত ‘শিশুর নিরাপদ জীবন: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য উঠে আসে। সংগঠনের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের প্রেসিডিয়াম সদস্য লেনিন চৌধুরী।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু। তারা ধর্ষণ, পাচার, মানসিক নির্যাতন, অপুষ্টি ও শিশুশ্রমসহ নানা ঝুঁকিতে রয়েছে। ২০২৪ সালে দেশে ৪০৩টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে ভয়ভীতি, সামাজিক লজ্জা ও পারিবারিক চাপের কারণে অধিকাংশ ঘটনা প্রকাশ পায় না। বিশেষ করে ছেলেশিশু নির্যাতনের অনেক ঘটনা রিপোর্টই করা হয় না।

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে ৯ জনই কোনো না কোনোভাবে মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অনেক পরিবার মনে করে শারীরিক শাস্তি ছাড়া শিশু পড়াশোনায় মনোযোগী হয় না, যা শিশু বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া ৫ থেকে ৭ বছর বয়সী শিশুদের ৯ দশমিক ২ শতাংশ শিশুশ্রমে জড়িত এবং তারা নিয়মিত শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রায় ১৮ শতাংশ অপুষ্টিজনিত গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে।

সেমিনারে বক্তারা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও বিকাশ নিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, বর্তমান শিক্ষাক্রমে শিশুদের মানসিক ও সৃজনশীল দক্ষতা বিকাশের পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি শিক্ষা কাঠামোয় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া বলেন, শিশুর বিকাশ শুধু শারীরিক পুষ্টির ওপর নির্ভর করে না, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি পরিবারে শিশুদের জন্য সৃজনশীল ও সহায়ক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি শান্তিপূর্ণ ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে শিশুদের যথাযথভাবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি শিক্ষাক্রম বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার দাবি জানান।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবীর, অধ্যাপক মো. আবু সাঈদ, শিল্পী তামান্না রহমান, সাদিয়া আরমান এবং শিশু প্রতিনিধি আদ্রিতা রায়সহ অনেকে।

বক্তারা মনে করেন, স্কুলে খেলার মাঠ নিশ্চিত করা, শিশু সুরক্ষা জোরদার করা এবং শিক্ষাক্রম সংস্কার করা এখন সময়ের দাবি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর