ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী তিন নিরাপত্তারক্ষীসহ অপহৃত কালাতের রাজপুত্র শাহজাদা আহমেদজাই 'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' শব্দ নিষিদ্ধের ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নারী পরীক্ষকের সামনে পুরুষরা কম ব্যথা অনুভব করেন: নতুন গবেষণা উইন্ডিজের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নেই মুশফিক! কাঁদুনে গ্যাসে ফরাসি বিক্ষোভকারীর মৃত্যু, পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ, দাবি বিরোধী নেতা আইজেনকোটের ফেনারবাখচেকে হারিয়ে ইউরোলিগে ভ্যালেন্সিয়ার দুর্দান্ত জয়

সামান্য ২ শতক জমির বিরোধ

মাধবপুরে ১২ লাখ টাকার সেতু ২০ বছর ধরে অকেজো


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৬ মে, ২০২৬ সময় : ৫:১০ পিএম

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের রূপনগর গ্রামে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে সংযোগ সড়কের অভাবে সম্পূর্ণ ব্যবহারহীন ও পরিত্যক্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে একটি সেতু। সেতুর এক পাশে পাকা সড়ক এসে শেষ হলেও অন্য পাশে নেই কোনো সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড)। ফলে সরকারের লাখ লাখ টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নির্মিত এই সেতুটি আজ স্থানীয় এলাকাবাসীর কাছে যেন এক বিরাট রহস্য আর সরকারি অর্থ অপচয়ের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে রূপনগর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সরু একটি খালের ওপর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন নতুন সেতুটির একপাশে এসে পাকা রাস্তাটি শেষ হয়েছে। কিন্তু অপর পাশে কোনো রাস্তা নেই, রয়েছে বিস্তীর্ণ ধানি জমি ও আঁকাবাঁকা মেঠোপথ। দীর্ঘ দুই দশক ধরে কোনো ধরনের ব্যবহার না হওয়ায় অবহেলায় সেতুর গায়ে ঘন শ্যাওলা জমেছে এবং রেলিংয়ের বিভিন্ন অংশেও ইতিমধ্যে ভাঙন দেখা দিয়েছে। অথচ চরম বাস্তবতার বিষয় হলো, এই অকেজো নতুন সেতুর ঠিক পাশেই অবস্থিত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো একটি নড়বড়ে ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন হাজারো স্থানীয় বাসিন্দা ও শত শত যানবাহন চালকেরা জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, শাহজিবাজার-বাঘাসুরা-ছাতিয়াইন বাজার সড়কের রূপনগর অংশে পুরোনো সেতুটি অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে প্রায় ২০ বছর আগে আনুমানিক ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে এই নতুন সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, পুরোনো সেতুটি ভেঙে ঠিক সেই জায়গায় নতুন সেতু নির্মাণের মূল পরিকল্পনা থাকলেও এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বাধার মুখে তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা যায়নি। পরবর্তীতে বরাদ্দকৃত বাজেট ফেরত যাওয়ার আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে স্থান পরিবর্তন করে সংযোগ সড়ক ছাড়াই খালের ওপর কেবল নতুন সেতুটি নির্মাণ করে ঠিকাদার।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুর রহমান রাসেল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নতুন সেতুটি তৈরি হলেও তা চালু না হওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে প্রতিদিন সবাই পুরোনো ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি ব্যবহার করছি। যেকোনো সময় এখানে ভেঙে পড়ে বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।” এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউন নবী বলেন, “আমি এখানে যোগদানের অনেক আগেই এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। যতটুকু শুনেছি, সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি স্থানীয়ভাবে না পাওয়ায় কাজটি তখন পুরোপুরি সম্পন্ন করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”

অন্যদিকে জমির মালিক কবির মিয়া নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, “এই জমি আমি টাকা দিয়ে কিনেছি। সরকারকে বিনামূল্যে জমি দেওয়ার কোনো কথা আমি কখনো বলিনি। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী সরকারিভাবে আমাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলে সংযোগ সড়কের জন্য জমি দিতে আমার কোনো আপত্তি নেই।” স্থানীয় বাঘাসুরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জোসনা আক্তার বলেন, “মাত্র দুই শতক জায়গা পেলেই এই সেতুর সংযোগ সড়ক করা সম্ভব। সামান্য একটু জমির জটিলতার জন্য ১২ লাখ টাকার সরকারি সেতু বছরের পর বছর এভাবে অকেজো পড়ে আছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।” এই জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যার দ্রুত সমাধান চান ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর