ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

ধ্বংসস্তূপে লিটনের ‘একলা চলো রে’ সেঞ্চুরি, বিপর্যয় কাটিয়ে ২৭৮ রানে বাংলাদেশ


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৬ মে, ২০২৬ সময় : ৬:৫৯ পিএম

ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকা:

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ শুরু হওয়া ঐতিহাসিক বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্টের প্রথম দিনেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল স্বাগতিক দল। ম্যাচের একপর্যায়ে মাত্র ৩৮.২ ওভারে বাংলাদেশের রান ছিল ৬ উইকেটে ১১৬। স্কোরবোর্ডের এই কঙ্কালসার চেহারাতেই স্পষ্ট যে, প্রথম কয়েক ঘণ্টায় বাইশ গজে ছিল পাকিস্তানি বোলারদের একচ্ছত্র দাপট। তবে সেই কোণঠাসা অবস্থা ও দাপুটে পাকিস্তানি বোলিংয়ের বিপরীতে পর্বতসমান দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েই সম্পূর্ণ ‘একলা চলো রে’ নীতিতে এক অনবদ্য ও বীরোচিত সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছেন লিটন দাস। তাঁর নান্দনিক সেঞ্চুরিতে ভর করেই বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রানের একটি বলার মতো এবং লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছে।

টেস্ট ক্রিকেটে এটি লিটন দাসের ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি, যার মধ্যে শক্তিশালী পাকিস্তানের বিপক্ষেই এর আগে তিনি করেছেন দুটি সেঞ্চুরি। এর আগে ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে এই পাকিস্তানের বিপক্ষেই দ্বিতীয় টেস্টে মাত্র ২৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধসে পড়া দলকে অসাধারণ এক সেঞ্চুরি করে রূপকথার পথ দেখিয়েছিলেন লিটন। সেবার তিনি খেলেছিলেন ১৩৮ রানের এক ঐতিহাসিক ইনিংস। রাওয়ালপিন্ডির সেই সেঞ্চুরিতে ৭৮ রানের ইনিংস খেলে লিটনকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছিলেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ।

কিন্তু আজ সিলেটের ২২ গজে পরিস্থিতি ও সমীকরণটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। আজ মিরাজের মতো প্রতিষ্ঠিত কোনো ব্যাটার ছিলেন না লিটনকে ক্রিজে সঙ্গ দেওয়ার জন্য। ফলে আজ দলের লোয়ার অর্ডারদের নিয়ে লিটনের সঙ্গী হয়েছেন কখনো তাইজুল ইসলাম, কখনো তাসকিন আহমেদ, কখনোবা শরীফুল ইসলাম। এদের সবাইকে অপর প্রান্ত থেকে পরম যত্নে আগলে রেখে এবং পাকিস্তানি বোলারদের তোপ নিজে সামলে নিয়ে অনেকটা ওয়ানডে মেজাজে খেলেই ক্যারিয়ার সেরা সেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন। শেষ পর্যন্ত তিনি ১৫৯ বলে ১২৬ রানের একটি ঝলমলে ও মাস্টারক্লাস ইনিংস খেলেন।

লিটন আজ মূলত ওয়ানডে মেজাজে কাউন্টার অ্যাটাকিং ব্যাটিং করেছেন নিজের ইনিংসের শুরু থেকেই। তিনি যখন ৭ নম্বর পজিশনে উইকেটে আসেন, তখন বাংলাদেশের রান ছিল ৪ উইকেটে ১০৬। এরপর অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে স্পিনার তাইজুল ইসলামকে যখন সঙ্গী হিসেবে পেলেন, তখনো লিটনের ব্যক্তিগত রান ছিল মাত্র ২। অর্থাৎ তিনি নিজেও তখনো পিচে পুরোপুরি থিতু হতে পারেননি।

সেখান থেকে অনেকটা ‘একলা চলো’ নীতিতেই দুর্দান্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে খেলে গেছেন লিটন। ওভারের বেশির ভাগ বল স্ট্রাইকে থেকে নিজে খেলেছেন। ওভারের শুরুর দিকে দলের ক্ষতি এড়াতে সরাসরি ফিরিয়ে দিয়েছেন সহজ সিঙ্গেল। এরপর পঞ্চম বা ষষ্ঠ বলে সুকৌশলে সিঙ্গেল বের করে প্রান্ত বদল করেছেন যেন পরের ওভারের শুরুর দিকে নিজে ব্যাটিং প্রান্তে থাকতে পারেন এবং স্ট্রাইক নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। এই নিখুঁত ও সাহসী কৌশলে খেলেই তিনি দুর্দান্ত সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন। শেষ পর্যন্ত নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন পাকিস্তানি বোলার হাসান আলীকে পুল করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে আবদুল্লাহ ফজলের হাতে ক্যাচ দিয়ে।

তবে এই ধ্বংসস্তূপে কৃতিত্ব লিটনের লোয়ার অর্ডার সঙ্গীদেরও প্রাপ্য। সপ্তম উইকেটে লিটন–তাইজুলের জুটিতে আসে অত্যন্ত মূল্যবান ৬০ রান, যেখানে ৪০ বলে ১৬ রান করেন তাইজুল। এরপর তাসকিনের সঙ্গে জুটিতে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৩৮ রান। নবম উইকেট জুটিতে লিটন ও শরীফুলে যোগ হয় আরও গুরুত্বপূর্ণ ৬৪ রান। যে যখন উইকেটে এসেছেন, লিটনকে এক প্রান্ত ধরে রাখার সর্বোচ্চ সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টাই করে গেছেন। লিটনের আউটের পর শেষ ব্যাটসম্যান নাহিদ রানা টিকেছেন মাত্র ৩ বল।

লিটনের ১২৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের দিনে বড় ইনিংস খেলার আফসোসে পুড়তে পারেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন ও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। দুজনেই উইকেটে থিতু হয়ে আউট হয়েছেন। মুশফিক করেছেন ২৩ এবং নাজমুল ২৯ রান। এছাড়া ভালো শুরু করেও আফসোস করতে পারেন মুমিনুল হক আর অভিষিক্ত ওপেনার তানজিদ হাসানও। মুমিনুল করেছেন ২২ রান ও তানজিদ ২৬ রান; অর্থাৎ বড় ইনিংস খেলার চমৎকার সম্ভাবনা তৈরি করেও মাটি করেছেন দুজনেই।

এর আগে সকালে পাকিস্তান টসে জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার পর ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে কোনো রান না করেই শূন্য রানে ফেরেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান। তবে এরপর তানজিদ–মুমিনুল ইতিবাচক ক্রিকেটই খেল করছিলেন। তানজিদ যখন ২৬ রানে আউট হন তখন বাংলাদেশের রান ১০ ওভারে ৪৪। দুজনকেই অবশ্য প্রথম সেশনেই সাজঘরে ফিরতে হয়েছে। তানজিদ পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আব্বাসের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ও মুমিনুল বোল্ড হয়েছেন খুররম শেহজাদের দারুণ এক ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে।

প্রথম সেশনের চেয়ে অবশ্য পাকিস্তানের দাপট দ্বিতীয় সেশনেই বেশি দেখা গেছে। ওই সেশনেই মাত্র ১৫ রান তুলতেই একে একে নাজমুল, মুশফিক ও মিরাজ ফিরে যান। ফলে বাংলাদেশের ইনিংসের বাকি গল্পটা বলতে গেলে লিটনের একার হাতেই লেখা। তাঁর দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে আজ দিনশেষে ঢাকা পড়ে গেছে খুররম শেহজাদের ৪ উইকেট আর মোহাম্মদ আব্বাসের ৩ উইকেট নেওয়া দুর্দান্ত ও বিধ্বংসী বোলিং স্পেল।

আজ দিনের শেষ বেলায় নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা পাকিস্তানও বেশ সাবলীলভাবেই করেছে। দিনশেষে তারা কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬ ওভারে তুলেছে ২১ রান। পাকিস্তানের দুই ওপেনার আজান আওয়াইস ও আবদুল্লাহ ফজল ক্রিজে বেশ সাবলীল ব্যাটিং করছেন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর