দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের আউলিয়াপুর এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেড়িবাঁধ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) সকালে স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের ব্যানারে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা নদীভাঙনের তীব্রতা ও এর ফলে সৃষ্ট ঝুঁকি তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনের কারণে ৪৪ নং গুলি আউলিয়াপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আউলিয়াপুর দাখিল মাদ্রাসা বর্তমানে মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন চলমান থাকলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী সমাধান নেওয়া হয়নি। ফলে ক্রমাগতভাবে ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও এলাকার বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, নদীভাঙনের কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে।
এ সময় মানববন্ধন থেকে জরুরি ভিত্তিতে নদীতে ব্লক স্থাপন, ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কার এবং ভাঙনকবলিত এলাকায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। তারা বলেন, সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে আউলিয়াপুর এলাকা মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান ওয়ালিউল ইসলাম রুবেল, আউলিয়াপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. হেলাল উদ্দিন, ৪৪ নং গুলি আউলিয়াপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মন্নান হাওলাদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
তারা বলেন, নদীভাঙন রোধে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ না নিলে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে এলাকার হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কায় পড়বে।
স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসী শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।