ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

বাউফলে লোহালিয়া নদীর ‘স্বপ্নের সেতু’র সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গিয়ে অবরুদ্ধ সেতুমন্ত্রী


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৯ মে, ২০২৬ সময় : ৫:২৩ পিএম

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: বাউফলের বগা এলাকায় লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত ‘স্বপ্নের সেতু’ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে গিয়ে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের মুখোমুখি হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর ১টার দিকে সেতুমন্ত্রী বগা ফেরিঘাটে পৌঁছান। সেখান থেকে নদীর পূর্বপাড়ে আয়োজিত এক সভায় যোগ দিতে ফেরিতে ওঠেন। সভার আয়োজন করেছিলেন বাউফল আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তবে সভাস্থলে মন্ত্রীর যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেন। মন্ত্রী পূর্বপাড়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিভিন্ন দিক থেকে ঘিরে ফেলে সেতুমন্ত্রীসহ সফরসঙ্গীদের। এ সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন।

প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পরিস্থিতিতে বিরক্ত হয়ে সেতুমন্ত্রী একই ফেরিতে পশ্চিমপাড়ে ফিরে যান। পরে তিনি গাড়িবহর নিয়ে দুমকি উপজেলার চরগরবদি একটি মাদ্রাসার মাঠে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। সেখানে সেতুমন্ত্রী বগার লোহালিয়া নদীতে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতার যাচাই প্রসঙ্গে বলেন, “বাউফলের আবিরা নামের এক শিশুর একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে। এ কারণে তিনি সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই করতে আসেন।” সভাস্থলে শিশু আবিরা ও তার ভাই ইয়ামিন উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বগা ফেরিঘাট এলাকায় অবরুদ্ধ অবস্থায় সেতুমন্ত্রী বলেন, “পটুয়াখালীর এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বাউফলের এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ বিএনপি নেতা সহিদুল আলম তালুকদার সাহেব সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।” দুমকির গরবদি মাদ্রাসা মাঠে সভা শেষে সেতুমন্ত্রী পটুয়াখালীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এসময় সেতুমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসাবে পটুয়াখালীর এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বাউফলের এমপি ও জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জামায়াত আয়োজিত সভায় মন্ত্রীকে অংশ নিতে না দিতেই পরিকল্পিতভাবে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। ঘটনাস্থলে বাউফলে বিএনপির পরাজিত এমপি প্রার্থী শহীদুল আলম তালুকদারসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

তবে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ কালবেলাকে বলেন, “সভাস্থলের ব্যানারে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি না থাকায় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা কিছু সময় সেতুমন্ত্রীকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। জামায়াত আয়োজিত সভাস্থলে যেতে দেননি।” উল্লেখ্য, বাউফলের লোহালিয়া নদীতে বাংলাদেশ-চীন নবম মৈত্রী সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল বিগত সরকারের আমলে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই উদ্যোগ স্থবির হয়ে পড়ে।

পরে জাতীয় সংসদে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সেতুমন্ত্রীকে বাউফল সফরের আমন্ত্রণ জানান এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এ ঘটনায় প্রস্তাবিত ‘স্বপ্নের সেতু’ নির্মাণের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা। বাউফলের এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “বিরোধিতার স্বার্থে কোনো বিরোধিতা নয়। আমি চাই বগার লোহালিয়া নদীতে সেতু নির্মাণ করা হোক। বর্তমান সরকার এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিবে বলে আশা করছি।”

 

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর