ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

ভালুকায় ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহের উদ্বোধন, অগ্নি নিরাপত্তায় জনসচেতনতার আহ্বান


  • আপলোড সময় : বুধবার ২০ মে, ২০২৬ সময় : ৮:২৪ পিএম

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: .

"অগ্নি যোদ্ধাদের একটাই পণ, নিরাপদ রাখবো সম্পদ ও জীবন" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে ময়মনসিংহের ভালুকায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) সকালে ভালুকা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিসের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ উদ্বোধনী কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ভালুকা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফিরোজ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হোসাইন, উপজেলা আনসার ও বিডিপি কর্মকর্তা মোঃ লিটন মিয়া সহ অন্যান্যরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে প্রাথমিক সতর্কতা ও সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা থাকা এবং নিয়মিত তা পরীক্ষা করা জরুরি। এছাড়া বৈদ্যুতিক সংযোগে অনিয়ম, গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে অসতর্কতা এবং রান্নাঘরে অবহেলা থেকে প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অগ্নি নির্বাপণ মহড়া, প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিক্ষণ, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা এবং লিফলেট বিতরণ। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আরও সচেতন করে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। তাই সাধারণ মানুষেরও দায়িত্ব হলো নিজের এবং আশপাশের পরিবেশকে নিরাপদ রাখা। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া এবং তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। পরে উপস্থিত অতিথিরা ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং তাদের কাজের প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানটি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ উপলক্ষে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় ভালুকায়ও স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, বাজার এবং শিল্পকারখানায় অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, আধুনিক নগরায়নের সাথে সাথে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই প্রতিটি পরিবারকে প্রাথমিক অগ্নি নির্বাপণ পদ্ধতি জানা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অগ্নিকাণ্ডের সময় করণীয় বিষয়গুলো হাতে-কলমে প্রদর্শন করেন। আগুন লাগলে কীভাবে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে, কিভাবে প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা যায় এবং কাদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা এসব প্রদর্শনী মনোযোগ সহকারে দেখেন এবং অনেকেই সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেন যে, এই ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মধ্যে অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ে স্থায়ী পরিবর্তন আনবে। স্থানীয় প্রশাসনও ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচি আরও বিস্তৃতভাবে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। এতে করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে এবং একটি নিরাপদ সমাজ গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয়দের মতে, ফায়ার সার্ভিসের এমন উদ্যোগ তাদের মধ্যে অগ্নি দুর্ঘটনা সম্পর্কে নতুন করে সচেতনতা তৈরি করেছে। তারা নিয়মিত এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও মহড়া আয়োজনের দাবি জানান।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিটি বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে ফায়ার এক্সটিংগুইশার রাখা এবং বৈদ্যুতিক লাইনের নিয়মিত পরীক্ষা করা অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন এবং শিশুদের আগুনের ঝুঁকি সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা ফায়ার সার্ভিসের সার্বিক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নতমানের সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।

এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলমান থাকলে স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। সবার সহযোগিতায় অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে সবার জন্য ইনশাআল্লাহ।


এ সম্পর্কিত আরো খবর