ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

ঋণের জন্য আইএমএফের পেছনে না দৌড়ে নিজস্ব তহবিল গঠনের তাগিদ অর্থমন্ত্রীর


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২১ মে, ২০২৬ সময় : ৭:৫২ পিএম

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি পরিচালনায় আমূল পরিবর্তনের আভাস দিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগের সনাতনী কায়দায় দেশ চালাতে চাইলে এখন আর চলবে না। বিশ্বব্যাপী অর্থায়নের বৈশ্বিক কাঠামো সম্পূর্ণ বদলে গেছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "সামান্য ১ থেকে ২ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়ার জন্য আমরা কেন বারবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পেছনে দৌড়াব? নাকি কাল সকালে নিজস্ব একটি তহবিল (ফান্ড) গঠন করে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিনিয়োগ করব? বিনিয়োগের বিপরীতে ভালো মুনাফা বা রিটার্ন পেলে কেন আমি অপেক্ষা করব যে কে, কবে আমাকে টাকা দেবে আর কী কঠিন শর্ত দেবে? আমাদের এর কী দরকার?"

আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দৈনিক প্রথম আলো আয়োজিত ‘সংকটকালের বাজেট ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব দূরদর্শী কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন এবং হেড অব অনলাইন শওকত হোসেন সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

গোলটেবিল বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পিপিআরসির চেয়ারপারসন হোসেন জিল্লুর রহমান, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সেলিম জাহান, ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মাহবুব উর রহমান, পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ, টিকে গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা এবং রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান প্রমুখ।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী দেশের নতুন অর্থনৈতিক দর্শনের ঘোষণা দিয়ে বলেন, "আমরা যেকোনো মূল্যে দেশে ‘অলিগার্ক অর্থনীতি’ বা গুটি কয়েক মানুষের সিন্ডিকেটের অবসান ঘটাতে চাই। দেশের প্রত্যেক নাগরিকের যাতে সুযোগের সমান অধিকার অর্থাৎ অংশগ্রহণমূলক অর্থনীতি নিশ্চিত হয়, তা বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর। অর্থনীতির এই সুষম গণতন্ত্রায়ণই হচ্ছে আমাদের বর্তমান দর্শন।" তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দেশের সৃজনশীল অর্থনীতির একটি বিরাট গোষ্ঠী করের আওতার বাইরে রয়ে গেছে। গ্রামে-গঞ্জের কামার, কুমার, তাঁতিদের মতো মেহনতি মানুষ কখনো বাজেটের মূল ধারায় আসেনি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তারা হাড়ভাঙা খাটুনি করলেও জীবনের ভাগ্য বদলায়নি। আসন্ন বাজেটে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের মাধ্যমে এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি দেশের ‘সফট পাওয়ার’ বা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী ও থিয়েটারকে এগিয়ে নিতে বড় বড় শহরে বিশেষ ‘থিয়েটার ডিস্ট্রিক্ট’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

ট্রেড ও সুশাসন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা পরিচালনার খরচ (কস্ট অব ডুইং বিজনেস) কমিয়ে আনতে বন্দর ও শুল্ক বিভাগসহ সবকিছুতে দ্রুত স্বয়ংক্রিয় বা ডিজিটাল ব্যবস্থা (অটোমেশন) চালু করা হবে। এখন থেকে রেস্তোরাঁ করার জন্য আর ১৩টি আলাদা অনুমতির প্রয়োজন হবে না; লাগলেও তা ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে দেওয়া হবে। ব্যাংক খাতের অদক্ষতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ব্যাংক বড় জোর চলতি মূলধন বা গাড়ি-বাড়ির ঋণ দিতে পারে। অথচ দুই হাজার কোটি টাকার বড় প্রকল্প ঋণ তারা দিয়ে দেয়, যা চরম আর্থিক অদক্ষতা। অর্থমন্ত্রীর প্রশ্ন, "সরকার সব জায়গায় জনগণের ট্যাক্সের পয়সা দেবে কেন? বাংলাদেশ বিমানকে ১২টি উড়োজাহাজ কেনার খরচ সরকার কেন দেবে? বিমান একটি স্বাধীন এন্টারপ্রাইজ, তারা প্রয়োজনে পুঁজিবাজার বা বন্ড মার্কেট থেকে টাকা তুলতে পারে।"

তামাক ও পানীয় খাতে কর ফাঁকি ও চুরির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বহুজাতিক কোম্পানিগুলো কর দিলেও অনেক বড় বড় স্থানীয় কোম্পানি কর ফাঁকি দিচ্ছে, যা বাজারে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করছে। এদের ধরতে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিশেষে, কর ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের ঘোষণা দিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "আমি আগের পুরোনো কর বিল পাস করতে দিইনি। আমি এমন একটি আধুনিক করনীতি দিতে চাই, যা দেশের মানুষ ও শিল্পের ডিএনএ বুঝবে এবং মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর দিতে উৎসাহিত হবে। আপনারা ধৈর্য ধরে মাত্র দুটি বছর অপেক্ষা করুন, এর মধ্যেই দেশের অর্থনীতি নিশ্চিত ঘুরে দাঁড়াবে এবং বাংলাদেশ একটি প্রকৃত কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। সাধারণ মানুষের জীবন না বদলালে কত জিডিপি প্রবৃদ্ধি হলো, সেই ইতিহাস বলে কোনো লাভ নেই।" প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সদিচ্ছার কারণেই আমলারাও এখন সপ্তাহে সাত দিন কাজ করছেন এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে চলমান সব অর্থনৈতিক সংস্কার সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর