ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

বাজেটে টার্গেট অতি ধনীরা, কর নীতিতে বড় পরিবর্তন


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৩ মে, ২০২৬ সময় : ১:২৮ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘদিনের করজটের মধ্যে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বড় ধরনের কর সংস্কারের পথে হাঁটছে সরকার। ব্যবসায়ীদের করের চাপ কমানো, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও পূর্বাভাসযোগ্য করতে একগুচ্ছ পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে—আমদানিকৃত প্রাথমিক ও শিল্প কাঁচামালের ওপর অগ্রিম আয়কর কমানোর উদ্যোগ।

একইসঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের সম্ভাব্য করহার আগাম ঘোষণা, সাধারণ করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি, অতি ধনীদের জন্য সম্পদ কর চালু এবং অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার নতুন সুযোগ দেওয়ার বিষয়গুলোও বাজেট আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবারের বাজেটে সরকারের মূল লক্ষ্য থাকবে—একদিকে রাজস্ব আদায় ধরে রাখা, অপরদিকে ব্যবসা ও বিনিয়োগের ওপর অতিরিক্ত চাপ কিছুটা হলেও কমানো। বর্তমানে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর দিতে হয়। নতুন প্রস্তাবে পণ্যের ধরন অনুযায়ী, এ হার কমিয়ে ৪ শতাংশ কিংবা ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার চিন্তা করছে সরকার। প্রাথমিক কাঁচামাল বলতে প্রাকৃতিক সম্পদভিত্তিক উপকরণকে বোঝানো হয়।

অন্যদিকে শিল্প কাঁচামাল হলো এমন উপাদান, যা ব্যবহার করে চূড়ান্ত বা আধা-চূড়ান্ত পণ্য উৎপাদন করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশীয় শিল্প উৎপাদনে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ এবং কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে এই সুবিধা দেওয়া হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত ১৪ মে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নীতিগতভাবে এ প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন। ওই বৈঠকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি ফেরানো এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কয়েকটি কর সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করে। ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন, আমদানি পর্যায়ে উচ্চ হারের অগ্রিম আয়কর তাদের নগদ অর্থপ্রবাহে বড় চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর শিল্পগুলোতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং কার্যকর মূলধনের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

বিজনেস ইনিশিয়ে লিডিং ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম খান বলেন, অস্বাভাবিক উচ্চ হারের অগ্রিম আয়কর কমানো উচিত। কিছু ক্ষেত্রে এটি পুরোপুরি প্রত্যাহারও প্রয়োজন। তার মতে, কোনও প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত কর দায়ের চেয়ে বেশি অগ্রিম কর আদায় হলে—তা দ্রুত ফেরত দেওয়া, অথবা ভবিষ্যৎ কর দায়ের সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগ থাকতে হবে। বর্তমানে সেই ব্যবস্থা কার্যকর না থাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের তারল্য সংকটে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ করপোরেট করহার থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কর ও উৎসে কর্তনের কারণে কার্যত প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত করের বোঝা বহন করতে হচ্ছে।

এবারের বাজেটে সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনগুলোর একটি হতে যাচ্ছে সম্পদ কর। বর্তমানে উচ্চ সম্পদের ব্যক্তিদের ওপর সারচার্জ আরোপ করা হয় প্রদেয় আয়করের ওপর ভিত্তি করে। নতুন প্রস্তাবে সারচার্জ তুলে দিয়ে সরাসরি সম্পদের মূল্যের ওপর কর আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী ৪ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকার সম্পদ থাকলে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ, ১০ কোটি থেকে ২০ কোটি টাকার মধ্যে হলে ১ শতাংশ, ২০ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকার মধ্যে হলে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ৫০ কোটির বেশি সম্পদের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ কর আরোপ হতে পারে। তবে কর কর্মকর্তারা বলছেন, এই সম্পদ কর কোনোভাবেই করদাতার মোট প্রদেয় আয়করের চেয়ে বেশি হবে না।

এছাড়া উচ্চ সিসির বিলাসবহুল গাড়ির ওপর অগ্রিম আয়করও বাড়ানো হচ্ছে। ৩০০১ থেকে ৩৫০০ সিসির গাড়ির ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর দ্বিগুণ করে ৪ লাখ টাকা এবং ৩৫০০ সিসির বেশি গাড়ির ক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশে ক্রমবর্ধমান আয় বৈষম্য কমানো এবং রাজস্ব আদায় বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে অতি উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ওপর করের চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে দেড় কোটি টাকার বেশি আয়কারীদের জন্য আয়করের সর্বোচ্চ হার বর্তমান ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করার বিষয়ে ভাবছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। আগামী জাতীয় বাজেটে অর্থমন্ত্রী এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বর্তমানে বছরে ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকার বেশি আয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ করহার প্রযোজ্য। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, মাসিক প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা তার বেশি আয় করেন—এমন করদাতারা নতুন ৩৫ শতাংশ করসীমার আওতাবদ্ধ হবেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো সুপার রিচ বা অতি ধনী শ্রেণির কাছ থেকে বেশি কর আদায় নিশ্চিত করা। তাদের মতে, উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ওপর বাড়তি কর আরোপের মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে। রাজস্ব বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩০ হাজার করদাতা রয়েছেন, যাদের আয় দেড় কোটি টাকার বেশি। নতুন করহার কার্যকর হলে অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের আশা করছে সরকার।

এর আগে চলতি বছরের মার্চে বাজেট বিষয়ক এক আলোচনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান অতি ধনীদের ওপর ৩৫ শতাংশ করহার আরোপের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছিলেন। তবে অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারণী মহলে এ উদ্যোগ নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। কেউ কেউ এটিকে বৈষম্য কমানোর ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে মনে করছেন—কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া শুধু করহার বাড়ালে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ডক্টর ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, বেশি আয়কারীদের কাছ থেকে বেশি কর নেওয়া ন্যায্য উদ্যোগ।

তবে একইসঙ্গে কর ফাঁকি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে—শুধু করহার বাড়িয়ে রাজস্ব আদায়ে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে না। অপরদিকে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামোর কারণে বছরের পর বছর একই করদাতাদের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে। তার মতে, করের আওতা সম্প্রসারণ এবং কর ফাঁকি রোধে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে, নতুন করহার দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় কম।

ফলে সরকার একদিকে রাজস্ব বাড়ানোর চাপ মোকাবিলা করছে, অন্যদিকে সামাজিক বৈষম্য কমানোর প্রশ্নও সামনে চলে এসেছে। এই বাস্তবতায় অতি ধনীদের ওপর বাড়তি কর আরোপের আলোচনা আগামী বাজেটে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অন্যতম বড় অভিযোগ হলো করনীতির অস্থিরতা। প্রায় প্রতি বাজেটেই করহার, শুল্ক বা কর অব্যাহতির নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। এতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এ বাস্তবতায় সরকার এবার পাঁচ বছরের সম্ভাব্য করহার কাঠামো আগাম ঘোষণা করার চিন্তা করছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের করনীতি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, করব্যবস্থাকে প্রেডিক্টেবল বা পূর্বাভাসযোগ্য করার উদ্যোগ হিসেবে এটি বিবেচনা করা হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা চান, করহার যেন অন্তত পাঁচ বছরের জন্য স্থায়ী থাকে। এতে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীল কর কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছে।

কর বিশেষজ্ঞ ও এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া মনে করেন, শুধু করহার পূর্ব ঘোষণা করলেই হবে না, সেটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণও হতে হবে। তার ভাষায়, বিশ্বজুড়ে করহার কমছে। কিন্তু বাংলাদেশে যদি তুলনামূলক বেশি করহার বহাল থাকে, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা কঠিন হবে। সাধারণ করদাতাদের চাপ কমাতে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা। নতুন বাজেটে তা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হতে পারে। যদিও ব্যবসায়িক সংগঠন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় করমুক্ত আয়সীমা অন্তত সাড়ে ৪ লাখ টাকা করার দাবি জানিয়েছে, তারপরও সরকার ধাপে ধাপে সীমা বাড়ানোর পথেই হাঁটছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত চাকরিজীবীদের কিছুটা স্বস্তি মিলবে। তবে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় এই ছাড় খুব বড় নয়। বাজেটে সবচেয়ে বিতর্কিত আলোচনাগুলোর একটি হলো অপ্রদর্শিত আয় বা কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ ফের চালু করা। তবে এবার আগের মতো নির্দিষ্ট কম হারে নয়, বরং নিয়মিত করহারেই এই সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, যে অর্থবছরে আয় গোপন করা হয়েছিল, সেই সময়কার নির্ধারিত করহার অনুযায়ী কর পরিশোধ করে সম্পদ বৈধ করা যাবে।

পাশাপাশি আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে, যাতে আয়কর বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন বা অন্য কোনও সংস্থা আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, আবাসন খাতে দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত লেনদেনমূল্য গোপন করার প্রবণতা রয়েছে। মৌজা মূল্য ও বাজারমূল্যের বড় পার্থক্যের কারণে বিপুল পরিমাণ অর্থ অপ্রদর্শিত থেকে যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, গুলশান বা বনানীতে ১০ কোটি টাকায় সম্পদ বিক্রি হলেও দলিলে হয়তো দুই কোটি টাকা দেখানো হয়।

বাকি আট কোটি টাকা কার্যত অপ্রদর্শিত থেকেই যায়। আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থ বৈধ করার সুযোগ দাবি করে আসছে। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, দুর্নীতির অর্থ বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হলে তা নৈতিক ও অর্থনৈতিক দুদিক থেকেই নেতিবাচক বার্তা দেবে। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, বৈধ পথে উপার্জিত কিন্তু কর ফাঁকি দেওয়া অর্থকে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু দুর্নীতির অর্থ কোনোভাবেই বৈধ করার সুযোগ থাকা উচিত নয়।

সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এবারের বাজেটে সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হবে রাজস্ব আদায় ও বিনিয়োগ উৎসাহের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা। কারণ, একদিকে সরকারকে উচ্চ ব্যয় মেটাতে রাজস্ব বাড়াতে হবে, অন্যদিকে অতিরিক্ত করের চাপে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাত আরও সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ অবস্থায় কাঁচামালে অগ্রিম আয়কর কমানো, করহার আগাম ঘোষণা এবং কর কাঠামোকে আরও স্থিতিশীল করার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা ব্যবসায়ীদের আস্থা ফেরাতে কিছুটা হলেও সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর