হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় পৃথক দুটি ঝটিকা ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় এক কোটি ১৭ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ চোরাই ভারতীয় জিরা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। কাস্টমসের জাল ও ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে বিলাসবহুল কাভার্ড ভ্যান এবং বালুবাহী ড্রাম ট্রাকে সুকৌশলে এসব জিরা দেশের অভ্যন্তরে পরিবহন করা হচ্ছিল বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) রাত পৌনে ১১টায় হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক জরুরি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান জানান, বিজিবির একটি বিশেষ গোয়েন্দা দলের গোপন ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে মাধবপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা চত্বর এলাকায় প্রথম অভিযানটি চালানো হয়। সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার অভ্যন্তরে অবস্থিত ওই চত্বরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে একটি সন্দেহভাজন বালুভর্তি ড্রাম ট্রাক থামিয়ে তল্লাশি চালায় বিজিবি। এ সময় ট্রাকের বালু সরিয়ে ভেতরে অভিনব উপায়ে লুকিয়ে রাখা বস্তাবন্দি অবস্থায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় জিরা উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনার পর একই এলাকায় বিজিবির কড়া নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে একই স্থানে আরেকটি সন্দেহভাজন কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। নিখুঁত তল্লাশিকালে ওই কাভার্ড ভ্যানের ভেতর থেকেও প্লাস্টিকের বস্তার মধ্যে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা জব্দ করতে সক্ষম হন বিজিবি সদস্যরা।
বিজিবি সূত্র আরও জানায়, আটককৃত যানবাহনে থাকা মালামালের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য চালক ও সহকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তারা সিলেট জেলার ‘তামাবিল ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন’ কর্তৃক প্রদানকৃত বিল অব এন্ট্রি এবং এক্সপোর্ট সংক্রান্ত কিছু কাগজপত্র বিজিবির কাছে প্রদর্শন করে। তবে বিজিবির বিশেষ টিম অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সেই নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখতে পায়, মূল কপির পরিবর্তে কাস্টমসের সম্পূর্ণ জাল ও নকল কপি ব্যবহার করে এই চোরাচালান করা হচ্ছিল। জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে দুটি যানের সমস্ত জিরা ও গাড়ি দুটি জব্দ করে।
বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জব্দকৃত এই বিপুল পরিমাণ আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় জিরার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। জব্দকৃত মালামাল এবং যানবাহন দুটি পরবর্তী আইনানুগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কাস্টমস অফিসে হস্তান্তর করা হয়েছে। চোরাচালানের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
৫৫ বিজিবির অধিনায়ক তানজিলুর রহমান স্পষ্ট করে জানান, দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখা, রাজস্ব ফাঁকি রোধ এবং সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এমন কঠোর ও জিরো টলারেন্স নীতি ভিত্তিক বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও সাফল্যের সাথে অব্যাহত থাকবে।
আকাশজমিন / আরআর