ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় ঘোষণা

বন্ধ কারখানা চালু ও অর্থনীতি চাঙা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার মেগা তহবিল


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৩ মে, ২০২৬ সময় : ৬:০২ পিএম

দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় চালু করাসহ সামগ্রিক অর্থনীতিকে দ্রুত চাঙা করার লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল ও বিশেষ প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেগা তহবিলের ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর এই বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজের বিস্তারিত রূপরেখা ও লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরেন। তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন যে, এই বিশাল তহবিলের সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে নতুন করে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান তহবিলের ঋণের সুদের হার এবং কারা এই সুবিধা পাবেন, তা স্পষ্ট করে জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এই তহবিলের আওতায় বিতরণকৃত ঋণে সরকার বড় অঙ্কের ভরতুকি দেবে। সরকার ৬ শতাংশ সুদ ভরতুকি হিসেবে বহন করবে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে গ্রাহকেরা বা উদ্যোক্তারা মাত্র ৭ শতাংশ সুদে এই ঋণ সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। ৬০ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল তহবিলের আর্থিক কাঠামোর বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা সরাসরি দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নিজস্ব উৎস থেকে সরবরাহ করবে এবং বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক পুনঃঅর্থায়ন (রিফাইন্যান্স) তহবিল হিসেবে প্রদান করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেবল বন্ধ কলকারখানা চালুর মধ্যেই এই তহবিলের সুবিধা সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় বেশ কয়েকটি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষি খাত, তৈরি পোশাক শিল্প (আরএমজি), সিএমএসএমই (কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প) এবং পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক সৃজনশীল অর্থনীতি (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি)। এসব খাতে এই তহবিল থেকে সহজ শর্তে ঋণ ও অর্থায়ন নিশ্চিত করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, এই অর্থায়নের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, সামগ্রিক জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে এবং বাজার চাঙ্গা হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান আরও বলেন, ‘বিগত সময়ে দেশ থেকে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা পাচার ও চুরি হয়ে গেছে। দেশের মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় এক–তৃতীয়াংশই সম্পূর্ণ নাই হয়ে গেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, যেসব ঋণের টাকা গায়েব হয়েছে, সেসবের বিপরীতে ব্যাংকের কাছে পর্যাপ্ত কোনো জামানত বা সম্পদও নেই।’ তিনি জানান, এমন একটি সংকটকালীন পরিস্থিতিতে এই নতুন প্রণোদনা তহবিল দেশের ঝিমিয়ে পড়া শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত কার্যকরী ও মাইলফলক ভূমিকা পালন করবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর