স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার দিবাগত রাতে আকস্মিকভাবে শুরু হওয়া কালবৈশাখী ও দমকা হাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শত শত গাছপালা উপড়ে পড়ে। ঝড়ের তাণ্ডবে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে গাছ পড়ে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া বাতাসের তীব্রতায় অনেক টিনশেড ঘরের চাল উড়ে গিয়ে পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
ঝড় পরবর্তী সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। নবাবগঞ্জ উপজেলা সদরসহ আশপাশের এলাকাগুলো অন্ধকারে তলিয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে অন্তত ১১টি বৈদ্যুতিক খুঁটি দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙে পড়েছে। ফলে দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয়রা। পরে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত লাইনের মেরামত কাজ শুরু করলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষি খাতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৩০ হেক্টর জমির ধান, ২০ হেক্টর ভুট্টা ও ৩ হেক্টর সবজি ক্ষেত সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ১৫ হেক্টর আম ও লিচুর বাগান ঝড়ের কবলে পড়েছে। মৌসুমের শেষ সময়ে এসে আম ও লিচু ঝরে পড়ায় বাগান মালিকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, ঋণের টাকা নিয়ে তারা চাষাবাদ করেছিলেন। এখন ফসল ও বাগানের এমন ক্ষতি হওয়ায় তারা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। অনেকের সারা বছরের আয়ের উৎস এই ফসল ধ্বংস হওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেন, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে। এখনো সব এলাকার তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তবে উপজেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাকৃতিক এ বিপর্যয়ে নবাবগঞ্জের মানুষ এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।