সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 66
রেজাউল করিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ
তীব্র গরমে স্বস্তি, পানিশূন্যতা দূর এবং শরীর সতেজ রাখতে এখন ব্যাপক কদর বেড়েছে তালের রসের। সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গ্রীষ্মের দাবদাহে অতিষ্ঠ মানুষজন তৃষ্ণা মেটাতে ভিড় করছেন তালের রসের দোকানগুলোতে। বিশেষ করে তাড়াশ-নিমগাছি আঞ্চলিক সড়কের পাশে গড়ে ওঠা অস্থায়ী বাজারগুলোতে প্রতিদিন সকাল থেকেই দেখা মিলছে ক্রেতাদের ভিড়।
তালের রস সংগ্রহের কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও শ্রমসাধ্য। তালগাছের প্রায় পুরোটা উঠলেও শেষের আড়াই হাত ওঠাই সবচেয়ে কঠিন। এ কারণেই প্রচলিত রয়েছে ‘তালগাছের আড়াই হাত’ প্রবাদটি। তবে জীবিকার তাগিদে গাছিরা প্রতিদিন অন্তত দুইবার এই ঝুঁকি নিয়ে তালগাছে ওঠেন এবং রস সংগ্রহ করেন।
প্রচণ্ড গরম ও বৃষ্টিহীন আবহাওয়ায় মাঠঘাট ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। অতিরিক্ত তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ সময় শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেওয়ায় মানুষ প্রাকৃতিক পানীয় হিসেবে তালের রসের দিকে ঝুঁকছেন। স্থানীয়দের মতে, ঠান্ডা ও সতেজ তালের রস শরীরকে দ্রুত প্রশান্তি দেয়।
গাছিরা জানান, যেসব তালগাছে তাল ধরে না সেগুলোকে ‘জটা তালগাছ’ বলা হয়। এসব গাছ থেকেই মূলত বেশি রস পাওয়া যায়। আবার যেসব গাছে তালের মোচা বের হয়, সেগুলো থেকেও রস সংগ্রহ করা সম্ভব। চৈত্র মাসের শুরুতে গাছ পরিষ্কার করে রস সংগ্রহের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
তালগাছ অনেক উঁচু হওয়ায় গাছে ওঠার জন্য বাঁশ ব্যবহার করা হয়। এরপর জটা বা মোচার নিচের অংশ সামান্য কেটে দেওয়া হয়, যেন সেখান থেকে রস বের হতে পারে। রস সংগ্রহের জন্য ছোট আকৃতির হাঁড়ি বা ভাঁড় ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি গাছে চারটি বা তার বেশি পাত্র ঝুলিয়ে রাখা হয়। পাত্রের ভেতরে চুন দেওয়া হয়, যাতে রস পরিষ্কার থাকে এবং দ্রুত নষ্ট না হয়।
রসের ভাঁড়ের মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়, যেন কোনো ময়লা ভেতরে ঢুকতে না পারে। প্রতিবার রস নামানোর সময় জটা বা মোচার অগ্রভাগ সামান্য কেটে আবার নতুন করে রস বের হওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
জাহাঙ্গীরগাতীর গাছিয়া মামুন জানান, তিনি প্রতিদিন চারটি গাছ থেকে দুইবারে প্রায় ২৪ লিটার রস সংগ্রহ করেন। পরে সেগুলো হাটবাজারে বিক্রি করেন। প্রতি গ্লাস তালের রস ২০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতিদিন তিনি প্রায় ৯০ থেকে ১০০ গ্লাস রস নিয়ে বাজারে যান।
তিনি আরও বলেন, প্রচণ্ড গরমে মানুষ বেশ আগ্রহ নিয়েই তালের রস পান করছেন। অনেকেই ফোন করে আগাম অর্ডারও দেন। ফলে বর্তমানে তালের রসের চাহিদা অনেক বেড়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, তাড়াশ-নিমগাছি আঞ্চলিক সড়কের এই তালের রসের বাজার এখন এই অঞ্চলের একটি অস্থায়ী ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, এলাকার তালগাছগুলো সংরক্ষণ করা গেলে এবং গাছিদের সহজ শর্তে ঋণ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে এই মৌসুমি ব্যবসা গ্রামীণ অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।ৃ