ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারত যা চাইবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাই পাবে: ডোনাল্ড ট্রাম্প


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৫ মে, ২০২৬ সময় : ১১:০৪ এএম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণার ২৫০তম গৌরবোজ্জ্বল বার্ষিকী বা কোয়ার্টার-সহস্রাব্দ উদযাপন উপলক্ষে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত এক জমকালো কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে সরাসরি যুক্ত হয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে হইচই ফেলে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অনুষ্ঠানটিতে সুদূর ওয়াশিংটন থেকে সরাসরি টেলিফোনের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। নিজেকে নরেন্দ্র মোদির একজন পরম ভক্ত এবং অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে দাবি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দিয়েছেন যে, আগামী দিনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের উন্নয়ন ও স্বার্থ সুরক্ষায় ভারত আমেরিকার কাছে যা চাইবে, ঠিক তাই পাবে।

রোববার (২৪ মে) রাতে দিল্লিতে আয়োজিত এই বিশেষ দ্বিপাক্ষিক অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন ভারতের রাষ্ট্রীয় সফরে থাকা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর। অনুষ্ঠান চলাকালীন সভাকক্ষের পেছনে স্থাপিত একটি বিশাল ডিজিটাল পর্দায় ফোন কলের মাধ্যমে সরাসরি লাইভে যুক্ত হন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ সময় তিনি তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে মার্কিন দূতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘সার্জিও, আপনাকে সেখানে আমাদের মহান দেশের চমৎকার প্রতিনিধিত্ব করতে হবে। তবে শুরুতেই আমি সেখানে উপস্থিত ভারতের বিশিষ্টজনদের প্রতি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাতে চাই। আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে ভালোবাসি। নরেন্দ্র মোদি একজন অসাধারণ দূরদর্শী নেতা এবং তিনি আমার অত্যন্ত বিশ্বস্ত বন্ধু।’’

নিজের সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্যে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ‘‘বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি যে, ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ক এখন ইতিহাসের আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি গভীর এবং ঘনিষ্ঠ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।’’ ভারতকে শতভাগ আশ্বস্ত করে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘‘যেকোনো বৈশ্বিক সংকট বা প্রয়োজনে ভারত আমাদের দেশের ওপর শতভাগ চোখ বন্ধ করে ভরসা রাখতে পারে। ভারতের যদি ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের সামরিক, অর্থনৈতিক বা কৌশলগত সহায়তার দরকার হয়, তারা খুব ভালো করেই জানে যে ঠিক কোথায় ফোন করতে হবে। আমি আবারও বলছি, ভারত যা চাইবে, আমেরিকা থেকে তারা তাই পাবে।’’

টেলিফোন আলাপে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি এবং শক্তিশালী শেয়ারবাজারের অভূতপূর্ব সাফল্যের প্রশংসা করে দাবি করেন, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে একের পর এক নতুন রেকর্ড গড়ে চলেছে। একই সঙ্গে তিনি মঞ্চে উপস্থিত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম ‘সেরা পররাষ্ট্রমন্ত্রী’ বলেও জনসমক্ষে বিশেষায়িত করেন। ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যের শেষ অংশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ব্যক্তিগতভাবে গভীর শুভেচ্ছা জানান। এ সময় মার্কিন দূত সার্জিও গোর ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে আবারও হোয়াইট হাউস সফরের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ বার্তা পৌঁছে দেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে ভারতের মাটিতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সফরে এসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা দিয়ে বলেছেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির একদম শেষ প্রান্তে বা খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এই সম্ভাব্য মেগা চুক্তিটি দুই দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্যই সমানভাবে লাভজনক, ফলপ্রসূ এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে। দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মার্কো রুবিও দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ আহরণ এবং গভীর প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক নীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে কিছু প্রকাশ্য মতবিরোধ ও টানাপোড়েন থাকলেও, চীনের বৈশ্বিক প্রভাব মোকাবিলা এবং এশীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন ও দিল্লি এখন নিজেদের সম্পর্ককে ইতিহাসের সর্বোচ্চ শক্তিশালী স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর কূটনৈতিক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর