সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 73
পবিত্র ঈদুল আজহার ঘরমুখী মানুষের নিরাপদ ঈদযাত্রার আনন্দের মাঝেই সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানাধীন সিআরবিসি এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন মানুষ নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মহাসড়কের এই নির্দিষ্ট অংশে এই রক্তক্ষয়ী ও ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। আকস্মিক এই দুর্ঘটনার ফলে মুহূর্তের মধ্যে উৎসবের আমেজ রূপ নেয় এক গভীর বিষাদ ও শোকের কালো ছায়ায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় স্থানীয় থানা ও হাইওয়ে পুলিশ প্রশাসন। সলঙ্গা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মহাসড়কে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার এই মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে সলঙ্গা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী বলেন, সলঙ্গা থানাধীন ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী দ্রুতগামী বাস এবং বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে এই তীব্র সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। এই মুখোমুখি সংঘর্ষ এতটাই মারাত্মক ছিল যে, সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার ভেতরে থাকা তিনজন যাত্রী প্রাণ হারান। ঘটনার পরপরই মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। পরবর্তীতে নিহতদের মরদেহগুলো উদ্ধার করে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়ে গেছে।
এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার উদ্ধার কার্য পরিচালনা এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, মহাসড়কে দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই হাইওয়ে পুলিশের একটি বিশেষ দল দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায়। আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দুর্ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহগুলো উদ্ধার করে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানায় নিয়ে এসেছি। তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, তাৎক্ষণিকভাবে নিহত এই তিন ব্যক্তির কারোরই নাম কিংবা সঠিক পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও নিশ্চিত করেছেন যে, নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণের সব ধরনের চেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে চালানো হচ্ছে এবং নিহতদের মরদেহের সুরতহাল দেখে এটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তারা সকলেই প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ছিলেন।
মহাসড়কে এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর পর আশপাশের শত শত মানুষ ও উৎসুক জনতা দুর্ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। দুর্ঘটনার কবলে পড়া দুমড়েমুচড়ে যাওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি মহাসড়কের ওপর থেকে সরিয়ে নিয়ে পুলিশ যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা শুরু করে। ঈদযাত্রার এই মহাসড়কে হঠাৎ এমন মর্মান্তিক প্রাণহানির কারণে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যানবাহনের গতি ধীর হয়ে যায় এবং হালকা যানজটের সৃষ্টি হয়, যা নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ একযোগে কাজ করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, পুলিশ ঘাতক যাত্রীবাহী বাসটিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং নিহতদের পরিচয় উদঘাটনে বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে। ঈদযাত্রার এই শুরুতেই সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এমন তিনটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার ঘটনাটি সামগ্রিকভাবে পুরো জেলায় এবং সাধারণ মানুষের মনে এক বিশাল আতঙ্ক ও গভীর শোকের আবহ তৈরি করেছে।