ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

লোকসানে ব্যবসায়ীরা

দুই হাজার টাকার চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০০ টাকায়


  • আপলোড সময় : শনিবার ৩০ মে, ২০২৬ সময় : ৫:২৬ পিএম

পবিত্র ঈদুল আজহার তৃতীয় দিনেও রাজধানীর পোস্তা কাঁচা চামড়ার আড়তে কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচা ও সংরক্ষণের ব্যস্ততা অব্যাহত রয়েছে। আড়তগুলোতে শ্রমিকরা চামড়ায় লবণ মেখে সংরক্ষণের কাজ করলেও সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে চামড়ার অস্বাভাবিক মূল্যপতন। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে চামড়া বিক্রি হওয়ায় বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন মৌসুমি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি হিসাব অনুযায়ী বড় আকারের একটি গরুর চামড়ার মূল্য প্রায় ২ হাজার টাকা এবং মাঝারি আকারের চামড়ার দাম ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে অনেক বড় চামড়াও ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর চেয়েও কম দামে চামড়া ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন সংগ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা।

পোস্তা আড়তে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে করে চামড়া আনা হচ্ছে। আড়তজুড়ে স্তূপ করে রাখা চামড়ায় দ্রুত লবণ মেখে সংরক্ষণ করছেন শ্রমিকরা। সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও প্রত্যাশিত মূল্য না পাওয়ায় হতাশা বিরাজ করছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানান, মসজিদ, মাদ্রাসা ও ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে চামড়া সংগ্রহের সময় তারা সরকারি দর বিবেচনায় নিয়ে মূল্য নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু আড়তে এসে সেই চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে অর্ধেকেরও কম দামে। পরিবহন, শ্রমিক ও সংরক্ষণ ব্যয় যোগ করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

আড়তদারদের মতে, ট্যানারি মালিকদের কাছে বিপুল পরিমাণ বকেয়া অর্থ আটকে রয়েছে। পাশাপাশি ট্যানারি খাতে নগদ অর্থের সংকটও রয়েছে। ফলে তারা চাহিদা অনুযায়ী চামড়া কিনতে পারছেন না। সময়মতো অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় বাজারে তারল্য সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে কাঁচা চামড়ার বাজারে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিবছর সরকার চামড়ার দাম নির্ধারণ করলেও মাঠপর্যায়ে তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যায় না। ফলে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন সংগ্রাহক, মৌসুমি ব্যবসায়ী, এতিমখানা ও মাদ্রাসাগুলো। তাদের মতে, ট্যানারি মালিকদের বকেয়া পরিশোধ, বাজারে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ এবং চামড়া সংগ্রহ ও বিপণনে কার্যকর তদারকি নিশ্চিত না হলে এ সংকট অব্যাহত থাকবে।

সরকার এবার ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের মূল্য ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করেছে, যা গত বছরের তুলনায় ২ টাকা বেশি। তবে বাস্তবে সেই মূল্য কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি পিস গরুর চামড়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কম দামে বিক্রি হয়েছে। একই সঙ্গে ছাগলের চামড়া কেনার ক্ষেত্রেও ব্যবসায়ীদের আগ্রহ ছিল খুবই কম।


এ সম্পর্কিত আরো খবর