ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে দিতে হবে টাকা, বিশ্বজুড়ে মেটার সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান!


  • আপলোড সময় : রবিবার ৩১ মে, ২০২৬ সময় : ১০:৪৭ এএম

প্রযুক্তি ডেস্ক:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দুনিয়ায় এক বিশাল ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা। প্রতিষ্ঠানটি এখন তাদের প্রচলিত ফ্রি বা বিনামূল্যে ব্যবহারের পাশাপাশি সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক বিশেষ সেবার ওপর আরও বেশি জোর দিচ্ছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই টেক জায়ান্টটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, তারা এখন থেকে তাদের প্রধান এবং জনপ্রিয় তিনটি অ্যাপ— ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য পেইড সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান বিশ্বব্যাপী চালু করছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কনটেন্ট নির্মাতা বা ক্রিয়েটর এবং মেটা এআই ব্যবহারকারীদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন ধরনের সাবস্ক্রিপশন সেবার পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

মেটার নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব সাধারণ ব্যবহারকারী উন্নত বা অতিরিক্ত ফিচারের জন্য ইনস্টাগ্রাম প্লাস (যার জন্য প্রতি মাসে দিতে হবে ৩.৯৯ ডলার), ফেসবুক প্লাস (যার জন্য প্রতি মাসে দিতে হবে ৩.৯৯ ডলার) অথবা হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস (যার জন্য প্রতি মাসে দিতে হবে ২.৯৯ ডলার) সাবস্ক্রাইব করবেন, তারা সাধারণ ব্যবহারকারীদের চেয়ে বাড়তি ও আকর্ষণীয় কিছু অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে নিজের প্রোফাইল নিজের মতো করে কাস্টমাইজ করার বিশেষ সুযোগ, চ্যাট ও কমেন্টে সুপার রিঅ্যাকশন দেওয়ার ক্ষমতা, নিজের স্টোরি-সংক্রান্ত গভীর বিশ্লেষণ বা ইনসাইটস দেখার সুবিধা এবং আরও বিভিন্ন ধরনের আধুনিক টেকনিক্যাল ফিচার।

এক বিশেষ আন্তর্জাতিক ঘোষণায় মেটার প্রোডাক্ট প্রধান নওমি গ্লেইট প্রযুক্তি দুনিয়াকে স্পষ্টভাবে জানান যে, বর্তমানে চালু হওয়া এই ফিচারগুলোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই পেইড সংস্করণে আরও অনেক আকর্ষনীয় ও মজার মজার ফিচার ক্রমান্বয়ে যোগ করা হবে।

এদিকে মেটা সাধারণ ভোক্তাদের বাইরে অন্যান্য পেশাদার নতুন সেবার পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও খুব শিগগিরই শুরু করতে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কনটেন্ট নির্মাতা বা ক্রিয়েটর ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ পেশাদার বা প্রফেশনাল প্ল্যান এবং সব সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কেন্দ্রিক বিশেষ প্ল্যান। এসব নতুন ও আধুনিক পরীক্ষামূলক সেবা মূলত ‘মেটা ওয়ান’ ব্যান্ডের আওতাধীনে পরিচালিত হবে, যা ভবিষ্যতে মেটার সমস্ত পেইড সাবস্ক্রিপশন সেবার মূল কেন্দ্র বা প্রধান ওয়ান-স্টপ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে মেটার প্রোডাক্ট প্রধান নওমি গ্লেইট সাধারণ ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন, ‘কেমন হতো যদি এই সাবস্ক্রিপশন আপনার প্রতিদিনের ব্যবহৃত অ্যাপগুলো থেকে আরও বেশি এক্সক্লুসিভ সুবিধা দিতে পারত? ইনস্টাগ্রাম প্লাস, ফেসবুক প্লাস এবং হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস এখন বিশ্বজুড়ে সবার জন্য চালু করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ক্রিয়েটর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং মেটা এআই-এর পাওয়ার ইউজারদের জন্য আরও নতুন নতুন আকর্ষণীয় প্ল্যান আসছে। খুব শিগগিরই এই সমস্ত প্রিমিয়াম সেবা মেটা ওয়ান নামে নতুন একটি নামের অধীনে বা ছাতার নিচে একত্রিত হতে পারে।’

উল্লেখ্য, মেটা চলতি বছরের শুরুর দিকেই অভ্যন্তরীণভাবে নিশ্চিত করেছিল যে তারা বিশ্বজুড়ে একটি মেগা সাবস্ক্রিপশন সেবা চালু করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করছে, এবং এর প্রাথমিক পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও বিশ্বের কয়েকটি অঞ্চলে শুরু হয়েছিল।

ভোক্তাদের জন্য মেটার এই দূরদর্শী পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো— পাওয়ার ইউজার বা যারা দিন-রাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করেন, তাদের জন্য অতিরিক্ত আকর্ষণীয় ফিচার প্রদান করা, যারা মূলত তাদের সোশ্যাল অ্যাপগুলো থেকে আরও বেশি প্রফেশনাল সুবিধা চান। একই সঙ্গে এটি মেটাকে কেবল একক বিজ্ঞাপন নির্ভরতার বাইরে নিয়ে গিয়ে আয়ের নতুন ও বিশাল একটি বৈশ্বিক উৎস তৈরি করার দারুণ সুযোগ দিচ্ছে। অর্থাৎ এর মাধ্যমে তারা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাদের বিলিয়ন সংখ্যক বিদ্যমান ব্যবহারকারীর কাছ থেকে আরও বেশি আর্থিক মূল্য আহরণ করতে সক্ষম হবে। কারণ মেটার এই প্রধান অ্যাপগুলো ইতিমধ্যেই বিশ্বব্যাপী প্রায় সম্পূর্ণভাবে মানুষের দোরগোড়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে নতুন করে আর ব্যবহারকারী বৃদ্ধির সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। আর এই কারণেই মেটা এখন বিদ্যমান ব্যবহারকারীদের নতুন ও চমৎকার অভিজ্ঞতা দেওয়ার মাধ্যমে নিজেদের ব্যবসার পরিধি বাড়াতে চাইছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর