ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

দারিদ্র্যের বাধা পেরিয়ে মেয়ের বিদায় অনুষ্ঠান, পাশে দাঁড়াল হৃদয়ে সৈয়দপুর


  • আপলোড সময় : সোমবার ০১ জুন, ২০২৬ সময় : ৪:২০ পিএম

নীলফামারী প্রতিনিধি:

দারিদ্র্যের কারণে বিয়ের তিন মাস পরও মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে বিদায় দিতে পারছিলেন না নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার এক অসহায় বাবা। অবশেষে সামাজিক ও মানবিক সংগঠন ‘হৃদয়ে সৈয়দপুর’-এর সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়েছে সেই বিদায় অনুষ্ঠান।

জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা মিস্টল ইসলাম পেশায় একজন আইসক্রিম বিক্রেতা। ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করা এই শ্রমজীবী মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছেন। নিজের কোনো জমিজমা বা স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতেই হিমশিম খেতে হয় তাকে।

তার বড় মেয়ে মিশু আক্তারের বিয়ে তিন মাস আগে কিশোরগঞ্জ উপজেলার সিংগেরগাড়ী এলাকার নুর মোহাম্মদ তাওহীদের সঙ্গে সম্পন্ন হয়। তবে আর্থিক সংকটের কারণে মেয়ের বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারেননি মিস্টল ইসলাম। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি।

পরে স্থানীয় মানবিক সংগঠন ‘হৃদয়ে সৈয়দপুর’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করলে সংগঠনটির সদস্যরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। সংগঠনের কামারপুকুর ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক জনি সরকারের মাধ্যমে সহযোগিতার আশ্বাস পান মিস্টল ইসলাম।

এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার রাতে সৈয়দপুর শহরের রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাবে মিশু আক্তারের বিবাহ-বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের উপদেষ্টা, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজে এখনও অনেক পরিবার রয়েছে যারা অর্থাভাবে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো যথাযথভাবে উদযাপন করতে পারেন না। এসব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ‘হৃদয়ে সৈয়দপুর’-এর মূল লক্ষ্য।

সংগঠনের উপদেষ্টা রবিউল আউয়াল রবি বলেন, “মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

এদিকে মেয়ের বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ায় আবেগাপ্লুত হয়ে মিস্টল ইসলাম বলেন, “অভাবের কারণে মেয়েকে বিদায় দিতে পারছিলাম না। হৃদয়ে সৈয়দপুর আমার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে যে সহযোগিতা করেছে, তা কখনও ভুলব না।”

স্থানীয়দের মতে, মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে পরিচালিত এমন উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও মানবতার চর্চাকে আরও শক্তিশালী করবে। অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে হৃদয়ে সৈয়দপুর যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা অন্যদেরও মানবিক কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর