ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

ছয় কক্ষের লাইসেন্সে পরিচালিত হচ্ছিল ২৫ কক্ষ !


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৩ জুন, ২০২৬ সময় : ৫:১২ পিএম

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির হাওজ রানি এলাকায় অবস্থিত ‘ফ্লুরিশ স্টে’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, হোটেলটি মাত্র ছয়টি কক্ষ পরিচালনার অনুমতি পেলেও সেখানে অবৈধভাবে ২৫টি কক্ষ চালু রাখা হয়েছিল। নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন এবং অতিরিক্ত কক্ষ পরিচালনার বিষয়টি এই দুর্ঘটনাকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দিল্লি পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, হোটেলটিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি পথ ছিল। ফলে আগুন লাগার পর অধিকাংশ অতিথি দ্রুত নিরাপদ স্থানে যেতে পারেননি। ধোঁয়া ও দমবন্ধ পরিবেশের কারণে নিহতদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

তবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সাহসিকতার সঙ্গে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। তাদের তৎপরতায় জ্বলন্ত ভবন থেকে অন্তত ৪৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) সকাল আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে হোটেলটির বেসমেন্টে অবস্থিত একটি রেস্তোরাঁ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পাশের ‘মিকাসা ইন’ হোটেলেও আগুন ছড়িয়ে যায়। এতে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ‘ফ্লুরিশ স্টে’ হোটেলটি দিল্লি সরকারের ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ (বি অ্যান্ড বি) স্কিমের আওতায় লাইসেন্স পেয়েছিল। এই নীতিমালা অনুযায়ী একটি কমপ্লেক্সে সর্বোচ্চ ছয়টি কক্ষ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু হোটেল কর্তৃপক্ষ সেই নিয়ম অমান্য করে ২৫টি কক্ষ পরিচালনা করছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে বেসমেন্টেও একাধিক কক্ষ তৈরি করা হয়েছিল। নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা না করেই এসব কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো।

ঘটনার সময় হোটেলটিতে অন্তত ৪০ জন অতিথি অবস্থান করছিলেন। তাদের একটি বড় অংশ বিদেশি নাগরিক ছিলেন। তারা মূলত উন্নত চিকিৎসাসেবা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ভারতে এসেছিলেন এবং কাছাকাছি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় অধিকাংশ অতিথি নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। ফলে আগুন ও ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে অনেকেই বের হওয়ার সুযোগ পাননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রাণ বাঁচাতে কেউ কেউ ভবনের জানালা ও বারান্দা থেকে নিচে লাফ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে দুটি ওয়াটার ইঞ্জিন, দুটি ওয়াটার বাউজার, কুইক রেসপন্স টিমসহ একাধিক অগ্নিনির্বাপক ইউনিট মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

দুর্ঘটনার পর হোটেলটির পরিচালনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং লাইসেন্স সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা এবং অনুমোদনের বাইরে কক্ষ পরিচালনার বিষয়গুলো এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর