ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

সহায়তার আশায় পরিবার

ক্ষুধা লাগলে মায়ের কবরে ছুটে যান তিন প্রতিবন্ধী ভাই


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৪ জুন, ২০২৬ সময় : ৩:৫৪ পিএম

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধূলিয়া ইউনিয়নের চাঁদকাঠী গ্রামের দাসনগর এলাকার তিন প্রতিবন্ধী ভাইকে ঘিরে মানবিক এক করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। বাবা-মা হারানোর পর অসহায় হয়ে পড়া রিপন দাস, সাধন দাস ও নিদু দাস এখন প্রতিবেশীদের সহায়তার ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করছেন। ক্ষুধা লাগলে তারা অনেক সময় খাবারের প্লেট হাতে মায়ের কবরের পাশে গিয়ে বসে থাকেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, জন্ম থেকেই বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতায় ভুগছেন তিন ভাই। তাদের মধ্যে সাধন দাস দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং রিপন দাস ও নিদু দাস বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। বাবা রতন চন্দ্র দাসের মৃত্যুর পর মা সরস্বতী রানী অনেক কষ্ট করে সন্তানদের দেখাশোনা করতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন লিভার ও কিডনি রোগে ভোগার পর গত মাসে তিনিও মারা যান। এরপর থেকেই তিন ভাই কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েন।

পরিবারের পুত্রবধূ আগি রানী বলেন, “আগে আমি গার্মেন্টসে চাকরি করে সংসারে সহযোগিতা করতাম। কিন্তু শাশুড়ি মারা যাওয়ার পর বাড়িতে এসে সংসারের দায়িত্ব নিতে হয়েছে। এখন সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। তিন প্রতিবন্ধী সদস্যের দেখাশোনা, খাবার ও অন্যান্য খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমাদের পক্ষে তাদের সব চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবেশীদের দেওয়া খাবারেই অনেকটা চলছে তিন ভাইয়ের জীবন। কেউ খাবার দিলে খেতে পারেন, না দিলে অনেক সময় অনাহারেও থাকতে হয়। তাদের স্থায়ীভাবে সহায়তা করার মতো সামর্থ্য স্থানীয়দেরও নেই।

ধূলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমি তাদের বিষয়ে অবগত আছি এবং নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছি। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের চাল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তাদের জন্য সর্বোচ্চ সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।”

এদিকে, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ইতোমধ্যে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক সহায়তা নয়, এই তিন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও নিয়মিত সরকারি সহায়তা। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে এলে তাদের জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরতে পারে। বর্তমানে দুবেলা খাবার ও নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তাই এই তিন অসহায় ভাইয়ের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর