ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী তিন নিরাপত্তারক্ষীসহ অপহৃত কালাতের রাজপুত্র শাহজাদা আহমেদজাই 'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' শব্দ নিষিদ্ধের ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নারী পরীক্ষকের সামনে পুরুষরা কম ব্যথা অনুভব করেন: নতুন গবেষণা উইন্ডিজের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নেই মুশফিক! কাঁদুনে গ্যাসে ফরাসি বিক্ষোভকারীর মৃত্যু, পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ, দাবি বিরোধী নেতা আইজেনকোটের ফেনারবাখচেকে হারিয়ে ইউরোলিগে ভ্যালেন্সিয়ার দুর্দান্ত জয়

কুড়িগ্রামে নদীভাঙনের তাণ্ডব, গৃহহীন হওয়ার শঙ্কায় শতাধিক পরিবার


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৭ জুন, ২০২৬ সময় : ৪:০৯ পিএম

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুরি ইউনিয়নের উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকায় কালজানি নদীর তীব্র ভাঙনে গত তিন দিনে অন্তত ৭০টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরও অর্ধশতাধিক পরিবার। ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমি রক্ষার শেষ চেষ্টায় অনেক পরিবার এখন বাড়িঘর সরিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কালজানি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীরভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সীমান্তঘেঁষা উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকায় নদীর প্রবল স্রোত সরাসরি আঘাত হানায় একাধিক স্থানে মারাত্মক ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।

শিলখুরি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন ইউসুফ জানান, উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সীমান্তসংলগ্ন এই দুটি এলাকায় গত তিন দিনে অন্তত ৭০টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে আরও ৫০টির বেশি পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত তোফাজ্জল মিয়া বলেন, “এর আগেও কয়েকবার নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছি। অনেক কষ্টে আবার ঘর তুলেছিলাম। এখন নদী আবার ঘরের খুব কাছে চলে এসেছে। পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচব, বুঝতে পারছি না।”

একই এলাকার শাজাহান আলী বলেন, “দিন-রাত ঘর সরানোর কাজ করছি। নদী কখন কী নিয়ে যায় সেই আতঙ্কে আছি। সন্তানদের নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেব, কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।”

মোজাফ্ফর আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নদী আমাদের জমি খেয়েছে, এখন ঘরও খাচ্ছে। প্রতি বছর ভাঙনের আতঙ্কে থাকতে হয়। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হলে আমরা বারবার উদ্বাস্তু হব।”

কাশেম উদ্দিন বলেন, “এক জীবনে তিন-চারবার বাড়ি সরিয়েছি। আর কতবার সরাব? ঘর বাঁচাতে যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে।”

সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীপাড়জুড়ে বিরাজ করছে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা। কেউ ঘরের টিন খুলছেন, কেউ খুঁটি উপড়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। অনেক পরিবার গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল অন্যত্র স্থানান্তর করছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে উদ্বেগ বেশি দেখা গেছে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, “ভাঙন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্না হককে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।”

তবে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কালজানি নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলেও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় নদীতীরবর্তী মানুষদের ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়। দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকার আরও অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।


এ সম্পর্কিত আরো খবর