ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

তাড়াশে বিবাহবিচ্ছেদের পর বাবার বাড়িতে থাকা তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৭ জুন, ২০২৬ সময় : ৫:৩৪ পিএম

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় সাবিয়া খাতুন (২২) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। আজ রোববার (৭ জুন) সকালে তাড়াশ উপজেলার মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের অন্তর্গত নাদোসৈয়দপুর বাহিরপাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। বিবাহবিচ্ছেদের পর বাবার বাড়িতে থাকা এই তরুণীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত সাবিয়া খাতুন ওই গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের মেয়ে। তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আত্মহননের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা, নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সাবিয়া খাতুনের পারিবারিক সম্মতিতে হওয়া একটি বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বিয়ের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে প্রচণ্ড ভেঙে পড়েন এবং বাবার বাড়িতে এসে অবস্থান করছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিচ্ছেদ এবং এর পরবর্তী বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে তীব্র মানসিক চাপের মধ্যে দিনাতিপাত করছিলেন। কারও সাথে তেমন একটা কথাও বলতেন না।

শনিবার রাতে প্রতিদিনের মতো পরিবারের সদস্যরা তাকে রাতের খাবার খাওয়ার জন্য ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভেতর থেকে ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে পরিবারের লোকজনের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। একপর্যায়ে তারা জোরপূর্বক ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ঘরে ঢুকে তারা দেখতে পান, গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় ঘরের ধর্ণার (কাঠের তীর) সঙ্গে সাবিয়া খাতুনের নিথর মরদেহ ঝুলছে। এই দৃশ্য দেখে পরিবারের লোকজন চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে রাতেই বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তাড়াশ থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে আজ রোববার ভোরের আলো ফুটতেই তাড়াশ থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ঘরের ধর্ণা থেকে ঝুলন্ত মরদেহটি নামিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। আইনি সব প্রক্রিয়া শেষ করে দুপুরের দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান এই মৃত্যুর ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “প্রাথমিকভাবে নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে যে, বিবাহবিচ্ছেদসহ কিছু সংবেদনশীল পারিবারিক বিষয় নিয়ে তিনি তীব্র মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে সেই ক্ষোভ ও হতাশা থেকেই তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।” তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আজ রোববার সকালে তাড়াশ থানায় একটি নিয়মিত অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


এ সম্পর্কিত আরো খবর