ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

পুলিশের উপস্থিতিতেই যুবককে পিটিয়ে হত্যা: এলাকায় উত্তেজনা


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৮ জুন, ২০২৬ সময় : ৫:০৪ পিএম

খুলনা প্রতিনিধি

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নে হাসান ওরফে কিং (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রহস্য ও ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বয়ানে হত্যাকাণ্ডের ভিন্ন ভিন্ন কারণ উঠে আসছে। কেউ বলছেন তাৎক্ষণিক তর্কাতর্কি, আবার কারো মতে—ঘটনার পেছনে রয়েছে এলাকায় মাদক বাণিজ্য ও আধিপত্য বিস্তারের দীর্ঘদিনের বিরোধ।

রোববার (৭ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চাঁদখালী গরুর হাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত হাসান চাঁদখালী গ্রামের মালেক সরদারের ছেলে।

পরিবারের দাবি ও অভিযোগ: নিহতের স্ত্রী তাসলিমা বেগম জানান, তাদের ঘরের পাশে প্রস্রাব করতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কালিদাসপুর গ্রামের খালেক গাজীর ছেলে কুদ্দুসের সঙ্গে হাসানের কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে কুদ্দুস মোবাইল ফোনে নাজমুল হাসান মিন্টু, আজহারুল, জহিরুল, জাহাঙ্গীর, মনিরুল, কবির, খায়রুল ও খোকন হাজিসহ আরও কয়েকজনকে ডেকে আনে। তাসলিমার অভিযোগ, সংঘবদ্ধ হামলাকারীরা হাসানকে দড়ি দিয়ে বেঁধে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করেছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর ও উদ্বেগজনক অভিযোগ হলো—পুলিশের উপস্থিতিতেই এই বর্বর মারধর চালানো হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য: স্থানীয় একটি মহলের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে শুধু তাৎক্ষণিক বাকবিতণ্ডা নয়, বরং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কয়েক পক্ষের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব কাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, চাঁদখালী ও আশপাশের এলাকায় মাদক বাণিজ্যের আধিপত্য নিয়ে বিরোধ বেশ কয়েকদিন ধরে তীব্র ছিল। তাদের মতে, প্রস্রাব করার মতো তুচ্ছ ঘটনায় এত অল্প সময়ে এত লোকের সংঘবদ্ধ হওয়া রহস্যজনক।

পুলিশের বক্তব্য: অভিযুক্ত এসআই মঞ্জুরের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করা আমার জন্য সমীচীন হবে না। এ বিষয়ে ওসি মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলতে হবে।”

পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।


এ সম্পর্কিত আরো খবর