শিবগঞ্জ-মোকামতলা (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার চকপাড়া গ্রামের সমাজসেবক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারী সরদারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বাদ জোহর মরহুমের নিজ গ্রামে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারী সরদার বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। মরহুমের কফিনে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে তাঁর বাড়িতে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজসেবক ও সর্বস্তরের সর্বস্তরের জনগণ ভিড় করেন।
দাফনের পূর্বে মরহুমের প্রথম জানাজার নামাজ চকপাড়া গ্রামের স্থানীয় মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শুরুর আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানকালে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, "বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারী সরদার আমাদের গর্বিত সন্তান। ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি যে অবদান রেখে গেছেন, জাতি তা চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে। তাঁর চলে যাওয়া শিবগঞ্জ তথা দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।" জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।
তিনি শুধু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাই ছিলেন না, বরং যুদ্ধপরবর্তী সময়ে এলাকার শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা রেখে গেছেন। তিনি ছিলেন এলাকার সাধারণ মানুষের ভরসার প্রতীক। মহান মুক্তিযুদ্ধে ৭ নম্বর সেক্টরের অধীনে সম্মুখ সমরে অংশ নিয়েছিলেন এই বীর সন্তান। তাঁর সাহসিকতা ও রণকৌশল সহযোদ্ধাদের সবসময় অনুপ্রাণিত করত। তাঁর প্রয়াণে একজন দেশপ্রেমিক অভিভাবককে হারালো এলাকাবাসী। জানাজায় ইমামতি করেন স্থানীয় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। মোনাজাতে অংশ নিয়ে উপস্থিত হাজারো মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের বড় ছেলে সকলের কাছে তাঁর বাবার জন্য ক্ষমা ও দোয়া প্রার্থনা করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয় এবং ভবিষ্যৎ যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়। দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও বিকেল পর্যন্ত মরহুমের কবর জিয়ারত করতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসতে থাকেন। তাঁর এই চিরবিদায় গ্রামীণ জনপদে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করল, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
আকাশজমিন /
আরআর