মোঃ বাকি অনীক,কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে মাদক সেবনের অপরাধে তিন যুবককে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (১৫ জুন) উপজেলার সিদলাই ও চান্দলা এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাঁদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে অপরাধ স্বীকারের ভিত্তিতে আদালত তাঁদের দণ্ড প্রদান করেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় নিয়মিতভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সোমবার ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মাদক সেবনের অভিযোগে তিন যুবককে আটক করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন উপজেলার সিদলাই গ্রামের মুছলেমের ছেলে মো. সালাউদ্দিন (২৪), একই গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম (৪৩) এবং চান্দলা গ্রামের মো. মতিন খানের ছেলে মো. রুবেল (২৬)।
পুলিশ জানায়, ব্রাহ্মণপাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিংকন কুমার নাথের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দিনব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন কয়েকজন ব্যক্তির ওপর নজরদারি চালানো হয়। একপর্যায়ে মাদক সেবনের অভিযোগে ওই তিনজনকে আটক করা হয়।
আটকের পর তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাঁদের হাজির করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে শুনানিকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মাদক সেবনের বিষয়টি স্বীকার করেন। আদালত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের প্রত্যেককে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। আদালতের রায় ঘোষণার পর তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মাদকের বিস্তার রোধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। সেই নীতির অংশ হিসেবেই নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ প্রভাব থেকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক রহমান বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া। তরুণ সমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মাদকের কারণে সমাজে নানা ধরনের অপরাধ বৃদ্ধি পায়। ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত নজরদারি চালানোর পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমও অব্যাহত রেখেছে। এর ফলে মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে।
সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান মাদক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তি রোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হলে সমাজ থেকে এই সমস্যা অনেকাংশে দূর করা সম্ভব হবে।
ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায় কার্যকরের অংশ হিসেবে দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকে সোমবার বিকেলেই আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রদত্ত সাজা আইন অনুযায়ী কার্যকর করা হবে।
উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা ও মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণকে মাদকের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের আশা, নিয়মিত অভিযান, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলাকে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ এলাকায় পরিণত করা সম্ভব হবে।