মোঃ বাকি অনিক
কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা জেলার গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে এক বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে গ্রামীণ সড়ক মেরামত, সংরক্ষণ ও পুনর্বাসনের আওতায় জেলার বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য প্রায় ৪ কোটি ৯৩ লাখ ৬৯ হাজার ১৫০ টাকার একাধিক স্কিম অনুমোদন দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
এলজিইডির ঢাকার আগারগাঁও সদর দপ্তর থেকে জারি করা এক সরকারি স্মারকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্মারকে জানানো হয়, কুমিল্লা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পাঠানো প্রস্তাবিত প্রাক্কলন ও মাঠপর্যায়ের সমীক্ষা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রধান কার্যালয় থেকে এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত এই স্কিমগুলো দ্রুত ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এলজিইডি কুমিল্লা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীকে।
সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ (ওভারলে) স্কিম: অনুমোদিত উন্নয়ন তালিকায় প্রথম ধাপে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কের সময়ান্তর রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আসাদনগর-আব্দুল মতিন কাসরু কলেজ-মালাপাড়া ইউপি অফিস সড়ক (১ কিলোমিটার); এই কাজের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৪ লাখ ৯১ হাজার ৮৯২ টাকা এবং কাজ সম্পন্নের মেয়াদ ৯০ দিন।
কুমিল্লা সদর এলাকার বাশমঙ্গল চৌমুহনী-তৈলকুপি বাজার সড়ক (১ কিলোমিটার); যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬২৭ টাকা এবং মেয়াদ ৭৫ দিন।
কুমিল্লা সদরেরই রঘুরামপুর-ইলাশপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়ক (১ কিলোমিটার); যার প্রাক্কলিত ব্যয় ৩২ লাখ ১ হাজার ৮৪২ টাকা এবং কাজের মেয়াদ ৭৫ দিন। এই তিনটি মেরামত ও সংরক্ষণ প্রকল্পে সরকারের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৩০ লাখ ৬৩ হাজার ৩৬১ টাকা।
পুনর্বাসন ও প্রশস্তকরণ স্কিম: গ্রামীণ যাতায়াত আরও নির্বিঘ্ন করতে ও ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী করার লক্ষ্যে দুটি বড় সড়ক পুনর্বাসন ও প্রশস্তকরণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—
মুরাদনগর উপজেলার রায়তলা-কাজিয়াতল সড়কের অবশিষ্ট অসমাপ্ত কাজ (২.৫ কিলোমিটার); যার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ লাখ ৬ হাজার ৯০৭ টাকা এবং কাজ সম্পন্নের মেয়াদ ৯০ দিন।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা আরঅ্যান্ডএইচ সড়ক-দেওশ-মন্দবাগ বাজার সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প (৩.০২৫ কিলোমিটার); এই মেগা স্কিমটির জন্য সর্বোচ্চ ২ কোটি ৭৩ লাখ ৯৮ হাজার ৮৮২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং কাজ সম্পন্নের মেয়াদ ১২০ দিন। এই বড় দুটি পুনর্বাসন ও প্রশস্তকরণ প্রকল্পে সরকারের সর্বমোট ব্যয় হবে ৩ কোটি configuration ৬৩ লাখ ৫ হাজার ৭৮৯ টাকা।
এলজিইডির জারি করা স্মারকে আরও কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) ২০২৫ এবং ই-জিপি (e-GP) নির্দেশিকা সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রেখে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে দ্রুত দরপত্র আহ্বান, মূল্যায়ন ও যোগ্য ঠিকাদার নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রতিটি প্রকল্প যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং শতভাগ গুণগত মান বজায় রেখে সম্পন্ন হয়, সে জন্য মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলীদের কঠোর তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় এলজিইডি সূত্র জানিয়েছে, এই স্কিমগুলো বাস্তবায়িত হলে কুমিল্লার গ্রামীণ অঞ্চলের সাথে জেলা শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে, যা স্থানীয় কৃষিপণ্য পরিবহন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আকাশজমিন / আরআর