মোঃ বাকী অনিক, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা নগরীর অন্যতম ব্যস্ত সড়কগুলোতে এখন তীব্র ম্যানহল আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে বাগিচাগাঁও ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের সম্মুখভাগ থেকে শুরু করে রানীর বাজার সংলগ্ন সড়ক পর্যন্ত ড্রেনের ম্যানহলগুলোর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সড়কের কোথাও ম্যানহলের ঢাকনা সম্পূর্ণ নিখোঁজ, আবার কোথাও ভাঙাচোরা স্ল্যাব দিয়ে রাখা হয়েছে। পুরো সড়ক জুড়ে যেন সাধারণ পথচারী ও চালকদের জন্য একেকটি গোপন মরণফাঁদ পেতে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং কাজ শেষে যথাযথ তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের কারণেই এই তীব্র দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। দিনের আলোতে কোনোমতে চোখ-কান খোলা রেখে চলাচল করা গেলেও, রাতের অন্ধকার নামলেই এই সড়কটি এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। সড়কে পর্যাপ্ত আলোর অভাব এবং পানির নিচে লুকিয়ে থাকা এসব খোলা গর্তের কারণে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই চরম অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষুব্ধ নগরবাসীর মনে এখন একটাই বড় প্রশ্ন—কর্তৃপক্ষের এই প্রকাশ্য অবহেলা ও উদাসীনতার দায় শেষ পর্যন্ত কে নেবে? সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যকার সমন্বয়হীনতা আর ঠিকাদারদের দায়সারা কাজের খেসারত কেন সাধারণ নিরীহ মানুষকে নিজের জীবন বা অঙ্গহানি দিয়ে দিতে হবে? কুমিল্লায় সাম্প্রতিক সময়ে ড্রেনে পড়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনার পর এই ক্ষোভ আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। অবিলম্বে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ম্যানহল ও ড্রেন সংস্কার করে নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন সমাজ।
আকাশজমিন / আরআর