সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় একটি উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়নকে কেন্দ্র করে অংশগ্রহণকারী ঠিকাদারদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ায় পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করেছে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনিবার্য কারণবশত দরপত্র বাতিল করে পুনরায় নতুন টেন্ডার আহ্বানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার লিটল বার্ড স্কুলের ওয়াকওয়ে নির্মাণকাজের জন্য (টেন্ডার আইডি-১২৮৬৪৪১) প্রায় ১৩ লাখ টাকার একটি এলটিএম পদ্ধতির দরপত্র আহ্বান করা হয়। সরকারি ই-জিপি ব্যবস্থার মাধ্যমে জেলার ৯৩ জন ঠিকাদার অনলাইনে দরপত্র জমা দেন।
পরে নির্ধারিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় কারিগরি ও দাপ্তরিক যাচাই-বাছাই শেষে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এ প্রক্রিয়া শেষে গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে মেসার্স করিম আলী এন্ড সন্সকে কার্যাদেশের জন্য নির্বাচিত করা হয়।
তবে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক দরদাতা বাদ পড়ায় স্থানীয় ঠিকাদারদের একটি অংশ আপত্তি তোলে। তাদের অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সাবেক কাউন্সিলর কামাল হোসেনসহ কয়েকজন ঠিকাদার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। একই সময়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত সহকারী প্রকৌশলী মাহবুব আলমকে নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়, যদিও এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
উপজেলা প্রকৌশলী রজত কান্তি দাস বিষয়টি পর্যালোচনা করে ২১ জুন স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে (স্মারক নং: ৪৬.০২.৯০১৮.৯০০.১৪.০০১.২৬-৩৮৬/১(১০)) সংশ্লিষ্ট দরপত্রটি বাতিল ঘোষণা করেন। আদেশে উল্লেখ করা হয়, অনিবার্য কারণবশত টেন্ডারটি বাতিল করা হয়েছে এবং শিগগিরই পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হবে।
দপ্তর সূত্রে আরও জানা যায়, টেন্ডার বাতিলসংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদের প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
টেন্ডার বাতিলের সিদ্ধান্তের পর স্থানীয় ঠিকাদারদের একটি অংশ সন্তোষ প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদার বলেন, অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ। এতে সব ঠিকাদারের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত হবে বলে তারা আশা করছেন।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় উপজেলা প্রকৌশলী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পুনরায় দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হবে এবং অংশগ্রহণকারী ঠিকাদারদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।