ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

বিপৎসীমার নিচে সুরমার পানি, সুনামগঞ্জে কাটছে বড় বন্যার আতঙ্ক


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৫ জুন, ২০২৬ সময় : ৪:০৯ পিএম

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:                                                      

সুনামগঞ্জে সুরমা নদীসহ প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়ায় হাওরপাড়ের মানুষের বুক থেকে নেমেছে বড় বন্যার শঙ্কা। জেলার প্রধান পরিমাপক কেন্দ্র ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারতের মেঘালয় পাহাড়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে আসায় এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্রতা হ্রাস পাওয়ায় জেলাজুড়ে বন্যা আতঙ্ক অনেকটাই কেটে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ২১ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি গড়ে তিন সেন্টিমিটার করে কমছে, যা উপদ্রুত অঞ্চলের মানুষের জন্য বড় স্বস্তির খবর।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যমতে, বুধবার (২৪ জুন) সকাল থেকে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোর পর্যন্ত সুনামগঞ্জ সদর ও সংলগ্ন এলাকায় ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জি, মাওসিনরাম, সোহরা, মাউইরাট, শোলা, উইলিয়ামনগর, জোওয়াই, বারাপানি, রাতা ও চেরাসহ প্রধান প্রধান বৃষ্টিবহুল অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বর্ষণ হয়েছিল। উজানের সেই পানির কারণে সুনামগঞ্জের সুরমা, চলতি, পাটলাই, খাসিয়ামারা, যাদুকাটা, চেলা ও মনাই নদীতে সাময়িক পাহাড়ি ঢল দেখা দেওয়ায় নিম্নাঞ্চলে কিছুটা বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি পুরোপুরি ভিন্ন; সবকটি নদীতেই ঢলের পানি প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে।

নদ-নদীর পানি কমলেও পাহাড়ি ঢল ও সম্ভাব্য আকস্মিক দুর্যোগের বিষয়টি মাথায় রেখে পূর্বপ্রস্তুতি বজায় রেখেছে স্থানীয় প্রশাসন। জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার, মধ্যনগর ও ছাতকসহ ৬টি উপজেলার স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ মোকাবেলা কমিটি সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে শুকনো খাবার মজুদ রাখা, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুতকরণ এবং উদ্ধারকারী নৌযানসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় পূর্বপ্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখা হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া ও হাইড্রোলজিক্যাল মডেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৬ জুন থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়ি অঞ্চলে আবারও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের একটি আশঙ্কা রয়েছে। তবে এর ফলে আগামী তিন দিন সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও বড় ধরনের কোনো বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে জানান, "আপাতত সব নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে। আগামী তিন দিন উজানে ভারী বৃষ্টি হলে সাময়িকভাবে পানি প্রবাহ বাড়তে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে বড় কোনো বন্যার শঙ্কা নেই। আমরা মাঠ পর্যায়ে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।"


এ সম্পর্কিত আরো খবর