ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

লবণাক্ততায় ঝুঁকিতে সাতক্ষীরার কৃষি, টেকসই খাদ্য ব্যবস্থার আহ্বান


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৮ জুন, ২০২৬ সময় : ৮:৫৭ পিএম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষি, নিরাপদ পানির উৎস ও খাদ্য নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব কৃষি, সমন্বিত চাষাবাদ এবং ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

রোববার সাতক্ষীরা শহরের ম্যানগ্রোভ সভাঘরে বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক) আয়োজিত ‘খাদ্য ব্যবস্থা, উপকূলীয় বাস্তবতা ও এগ্রোইকোলজি: ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই ভবিষ্যতের সন্ধানে’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে এ আহ্বান জানানো হয়।

গ্রীন কোয়ালিশন (সবুজ সংহতি) সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সভাপতি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবু আফফান রোজ বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা জাহারুল ইসলাম।

সংলাপে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাতক্ষীরায় লবণাক্ততার মাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে কৃষিজমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে এবং অনেক প্রচলিত ফসল আগের মতো উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের চাষাবাদের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনতে হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, উপকূলীয় এলাকার বহু মানুষ নিরাপদ পানির সংকটে ভুগছেন। অনেক পরিবারকে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে অর্থ ব্যয় করে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে জনস্বাস্থ্য, জীবনযাত্রা এবং কৃষি উৎপাদনের ওপর বহুমাত্রিক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

আলোচনায় কৃষিখাতে নারীদের অবদানের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। বক্তাদের মতে, কৃষিকাজে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও তাদের শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না। কৃষিতে নারীর অধিকার, অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেন তারা।

বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়ক মো. শাহিন ইসলাম উপকূলীয় অঞ্চলের খাদ্য ব্যবস্থা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং এগ্রোইকোলজিভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি কৃষকদের টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তারা বলেন, শুধু খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করাই যথেষ্ট নয়; এমন একটি কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মাটি, পানি ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে। একই সঙ্গে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে পারবেন। এ লক্ষ্যে স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ, রাসায়নিকের ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশবান্ধব সমন্বিত চাষাবাদ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংলাপে আরও বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা প্লাবনী সরকার, নাগরিক নেতা ও সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, নাগরিক নেতা আলী নুর খান বাবুল, নাগরিক নেতা ও সাংবাদিক এম. কামরুজ্জামান, গ্রীন কোয়ালিশনের যুগ্ম সম্পাদক এম. বেলাল হোসাইন, ইয়ুথ অ্যাডাপটেশন ফোরামের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিমের ইফতি জামিল, বারসিকের সহকারী সমন্বয়কারী শাহেদা আজবেলা এবং রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি অ্যাডভোকেসি অফিসার আমরীন বিনতে আজাদ।

সংলাপ শেষে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সাতক্ষীরার কৃষি, পরিবেশ ও খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার, কৃষক, গবেষক, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় টেকসই, নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।


এ সম্পর্কিত আরো খবর