পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত চার ভাইয়ের মধ্যে শাহিন ছিলেন সবার বড়। তিনি হাজীগঞ্জ বাজারের একজন সুপরিচিত মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন। গতকাল রবিবার ভোরের দিকে তিনি নিজ বাড়িতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবারে সকাল থেকেই শোকের মাতম শুরু হয়। পরবর্তীতে জোহরের নামাজের পর স্থানীয় মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং স্বজন ও প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।
বড় ভাইয়ের দাফন শেষ করে স্বজনেরা যখন বাড়িতে ফিরে চোখের জল ফেলছিলেন, ঠিক তখনই রাত ১০টা ৫০ মিনিটে নেমে আসে আরেক চরম আঘাত। মারা যান তাঁর মেঝো ভাই আলমগীর হোসেন। পরিবার জানিয়েছে, আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। ঢাকার একটি হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকালই তাঁকে ঢাকা থেকে চাঁদপুরের নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল। বাড়িতে ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি চিরদিনের মতো চোখ খোলেন।
পারিবারিক সূত্রে আরও জানা গেছে, এই চার ভাইয়ের পরিবারে এখন বৃদ্ধা মা, একমাত্র বোন এবং বাকি দুই ভাইসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী গভীর শোকের সাগরে ভাসছেন। একই দিনে দুই সহোদর ভাইয়ের এমন অকাল ও পর পর মৃত্যুতে পুরো রান্ধুনীমুড়া এলাকায় এক স্তব্ধ ও শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এই বিরল ও দুঃখজনক ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন জনি চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘একই দিনে একটি পরিবারের দুই সহোদরকে চিরদিনের মতো হারানোর এই মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক ঘটনা আমাদের এলাকায় অত্যন্ত বিরল। দুটি জানাজা ও দাফনের এই দৃশ্য পুরো এলাকার বাতাসকে ভারী করে তুলেছে। আমরা এই পরিবারের ধৈর্য ধারণের জন্য প্রার্থনা করছি।’