ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

হাজীগঞ্জে শোকের মাতম

বড় ভাইকে দাফনের কয়েক ঘণ্টা পরেই মেঝো ভাইয়ের মৃত্যু


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৯ জুন, ২০২৬ সময় : ৩:৩৮ পিএম

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে একই দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সহোদর ভাইয়ের মৃত্যুর এক অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পর জোহরের নামাজ শেষে যখন তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়, স্বজনেরা তখনও সেই শোক সামলে উঠতে পারেননি। কিন্তু এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই রাতে মারা যান মেঝো ভাই। অল্প সময়ের ব্যবধানে আপন দুই ভাইকে হারিয়ে পুরো পরিবারটি এখন চরমভাবে ভেঙে পড়েছে। গতকাল রবিবার (২৮ জুন) হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের রান্ধুনীমুড়া এলাকার শুকু কমিশনারের বাড়িতে এই মর্মস্পর্শী ঘটনাটি ঘটে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত চার ভাইয়ের মধ্যে শাহিন ছিলেন সবার বড়। তিনি হাজীগঞ্জ বাজারের একজন সুপরিচিত মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন। গতকাল রবিবার ভোরের দিকে তিনি নিজ বাড়িতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবারে সকাল থেকেই শোকের মাতম শুরু হয়। পরবর্তীতে জোহরের নামাজের পর স্থানীয় মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং স্বজন ও প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।

বড় ভাইয়ের দাফন শেষ করে স্বজনেরা যখন বাড়িতে ফিরে চোখের জল ফেলছিলেন, ঠিক তখনই রাত ১০টা ৫০ মিনিটে নেমে আসে আরেক চরম আঘাত। মারা যান তাঁর মেঝো ভাই আলমগীর হোসেন। পরিবার জানিয়েছে, আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। ঢাকার একটি হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকালই তাঁকে ঢাকা থেকে চাঁদপুরের নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল। বাড়িতে ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি চিরদিনের মতো চোখ খোলেন।

পারিবারিক সূত্রে আরও জানা গেছে, এই চার ভাইয়ের পরিবারে এখন বৃদ্ধা মা, একমাত্র বোন এবং বাকি দুই ভাইসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী গভীর শোকের সাগরে ভাসছেন। একই দিনে দুই সহোদর ভাইয়ের এমন অকাল ও পর পর মৃত্যুতে পুরো রান্ধুনীমুড়া এলাকায় এক স্তব্ধ ও শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এই বিরল ও দুঃখজনক ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন জনি চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘একই দিনে একটি পরিবারের দুই সহোদরকে চিরদিনের মতো হারানোর এই মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক ঘটনা আমাদের এলাকায় অত্যন্ত বিরল। দুটি জানাজা ও দাফনের এই দৃশ্য পুরো এলাকার বাতাসকে ভারী করে তুলেছে। আমরা এই পরিবারের ধৈর্য ধারণের জন্য প্রার্থনা করছি।’


এ সম্পর্কিত আরো খবর