বাগেরহাট সংবাদদাতা
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বছরের পর বছর সুনামের সঙ্গে কাজ করে আসা ৬৬ জন অভিজ্ঞ কর্মীকে কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই চাকরিচ্যুত করে নতুন করে ৯৪ জনকে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদে আজ বুধবার (১ জুলাই ২০২৬) সকাল থেকে চরম উত্তেজনা দেখা দেয় হাসপাতাল চত্বরে। ক্ষুব্ধ ও চাকরিচ্যুত কর্মীরা হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে সেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ শুরু করেছেন। আন্দোলনকারীদের সাফ কথা, অবিলম্বে এই বিতর্কিত ও অস্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে পূর্বের অভিজ্ঞ কর্মীদের পুনর্বহাল এবং নিয়োগ কেলেঙ্কারির নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন মাঠ ছাড়বেন না।
আন্দোলনরত কর্মীদের অভিযোগ, সরকারি আউটসোর্সিং নীতিমালা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কর্মরতদের বাদ দিতে হলে সুনির্দিষ্ট কারণ বা মনিটরিং কমিটির সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হয়, যার কিছুই মানা হয়নি। নতুন করে যে ৯৪ জনের নিয়োগ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তার পুরো প্রক্রিয়াটিই এক গভীর রহস্যে ঘেরা। আন্দোলনকারীদের দাবি, নিয়োগপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশ কোনো ধরণের লিখিত বা মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় অংশ না নিয়েই সরাসরি টেবিলে বসে চাকরি পেয়েছেন। অথচ যারা যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, মেধা তালিকায় থাকা সত্ত্বেও তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি ভাইভার জন্য পূর্বে প্রকাশিত প্রাথমিক তালিকার সঙ্গে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পাওয়া ৯৪ জনের নামের তালিকার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মেধা ও যোগ্যতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আর্থিক লেনদেন, ব্যক্তিগত পরিচিতি, প্রভাব এবং একটি নির্দিষ্ট এলাকার মানুষদের এখানে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ছাঁটাই হওয়া ৬৬টি পরিবার হঠাৎ করেই তাদের একমাত্র জীবিকা হারিয়ে চরম অর্থনৈতিক ও মানসিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীরা কথা বলতে চাইলে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। তারা কবে লিখিত পরীক্ষা দিয়েছেন বা কবে ভাইভা দিয়েছেন—এমন সাধারণ প্রশ্নেরও কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। একজন কর্মী আমতা আমতা করে বলেন, "আমরা সবাই একসঙ্গে জড়ো হলে তখন কথা বলব।" পরবর্তীতে নতুনদের কেউই এককভাবে ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতে রাজি হননি।
সার্বিক এই নিয়োগ কেলেঙ্কারি ও বিশৃঙ্খলার বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার সুর নরম করে বলেন, "আউটসোর্সিং কর্মীদের ছাঁটাই ও নতুন নিয়োগের বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন রয়েছে। আদালত আইনি যাচাই-বাছাই শেষে যে চূড়ান্ত নির্দেশনা বা সিদ্ধান্ত দেবেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেটিই বাস্তবায়ন করবে।" অন্যদিকে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'এইচআরডি অ্যান্ড ই এজেন্সি' (HRD AND E AGENCY)-এর বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাদের অফিশিয়াল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এই নিয়োগ দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে হাসপাতালজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও চিকিৎসা সেবা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর