গত ২ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তন্ময় কুমার সাহা এই আইনি নোটিশটি প্রেরণ করেন। নোটিশের অনুলিপি শিক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং অভিযুক্ত ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
গত ১ জুলাই ডাকসু ভবনে 'বাঙালি মুসলমানের জাগরণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়' বিষয়ক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সভায় ব্যারিস্টার ফুয়াদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এর শিক্ষক এবং প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের নিয়ে অত্যন্ত অবমাননাকর ও মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করেন।
আইনজীবী তন্ময় কুমার সাহার দাবি অনুযায়ী, গত পাঁচ থেকে সাত দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটদের জাতীয় পর্যায়ে অবদান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে তার মন্তব্য বিদ্বেষপূর্ণ ও বিভাজন সৃষ্টিকারী বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধরণের বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
আইনি নোটিশে ব্যারিস্টার ফুয়াদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তাকে তার বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রধান প্রধান ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
শুধু ক্ষমা প্রার্থনাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার দায়ে শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০০ কোটি টাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা তহবিলে জমা দেওয়ার দাবিও উত্থাপন করা হয়েছে। এই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মানোন্নয়ন ও জাতীয় পর্যায়ে গবেষণার কাজে ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
নোটিশকারী আইনজীবী স্পষ্ট করেছেন যে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে উল্লিখিত দাবিগুলো পূরণ করা না হলে জনস্বার্থে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে।
আকাশজমিন / আরআর