মোঃ বাকি অনিক , কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা মহানগরীর চিরচেনা মানচিত্র এবং সীমানায় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ভৌগোলিক আয়তন প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি করার একটি মেগা পরিকল্পনা ও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এবং বহুল আলোচিত এই প্রস্তাবটি সরকারিভাবে অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে, বর্তমান ৫৩ দশমিক ৪ বর্গকিলোমিটারের ছোট আয়তনের এই সিটি কর্পোরেশন এক লাফে বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ২৩৫ দশমিক ১ বর্গকিলোমিটারে। এর ফলে জেলা সদর, সদর দক্ষিণ, বুড়িচং এবং নবগঠিত লালমাই উপজেলার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ ইউনিয়ন পূর্ণাঙ্গভাবে সিটি কর্পোরেশনের নতুন সীমানার আওতায় যুক্ত হবে।
মহাজোট সরকারের এই নতুন মহোদ্যোগ এবং প্রস্তাবিত সীমান্ত সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট উপজেলার প্রান্তিক ও অবহেলিত এলাকাগুলোর সাধারণ বাসিন্দাদের মনে এক অভূতপূর্ব জাগরণ, ব্যাপক উৎসাহ এবং নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। কুমিল্লাবাসীর দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ও প্রত্যাশা, এসব ইউনিয়ন সিটি কর্পোরেশনের মূল কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হলে আধুনিক নাগরিক সেবার মান বহুগুণে উন্নত হবে। একই সাথে গ্রামীণ জনপদে উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, গ্যাস-বিদ্যুৎ, আধুনিক রাস্তাঘাটসহ বড় ধরনের অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা আমূল বৃদ্ধি পাবে এবং এর ফলে পুরো কুমিল্লা অঞ্চলে একটি সুপরিকল্পিত ও আধুনিক নগরায়ণ দ্রুত ত্বরান্বিত হবে।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল প্রশাসনিক সূত্র থেকে জানা গেছে, প্রস্তাবিত সীমানা সম্প্রসারণের যাবতীয় কারিগরি যাচাই-বাছাই ও মাঠপর্যায়ের মূল্যায়ন কার্যক্রম ইতিমধ্যে বেশ অনেক দূর এগিয়েছে। বিষয়টিকে দ্রুত ও নিখুঁতভাবে শেষ করতে দেশের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্ত ও মূল্যায়ন কমিটি গঠন করেছে। ওই কমিটির ঊর্ধ্বতন সদস্যরা সম্প্রতি কুমিল্লায় এসে প্রস্তাবিত অঞ্চলগুলো সরজমিনে পরিদর্শন করেছেন এবং তাদের প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের কাজও সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন যে, আমলাতান্ত্রিক ও আইনি সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এবং আইনি জটিলতা দ্রুত শেষ করে শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত ও যুগান্তকারী সরকারি সিদ্ধান্ত আলোর মুখ দেখবে ।
আকাশজমিন / আরআর