ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের উত্তরখানে যুবলীগের গোপন বৈঠক, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ বিচ্ছেদ গুঞ্জন উড়িয়ে ছেলের জন্মদিনে একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রী বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলা, ৯ জনের প্রাণহানি সুইডেনে সংসদ নির্বাচন: কট্টর ডানপন্থীদের সরকারে আসার জোর সম্ভাবনা

পিইডিপি-৪ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ: সাতক্ষীরার ১৩ বিদ্যালয়ের ভবন এখনো অসমাপ্ত


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৬ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৫:২৬ পিএম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) প্রকল্পের মেয়াদ গত ৩০ জুন শেষ হলেও সাতক্ষীরা জেলার ১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। একই সময়ে কাজ সম্পন্ন না করেই চূড়ান্ত বিল পরিশোধের অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়া আশাশুনি উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্য দেব সরকারকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, জেলার পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় ১৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১৭টির নির্মাণকাজ শেষ হলেও বাকি ১৩টির কাজ এখনো অসমাপ্ত। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে আশাশুনি উপজেলার দক্ষিণ কাদাকাটি কালীবাড়ি, দয়ারঘাট, বুড়িয়া ও গোয়ালডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; তালা উপজেলার শিরাশুনি, ওমরপুর ও উত্তর শাহজাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; শ্যামনগর উপজেলার বাইনতলা, গাবুরা, গাবুরা খোলপেটুয়া ও পশ্চিম কৈখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ও বাজুয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।


দক্ষিণ কাদাকাটি কালীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমিতা চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালে ভবন নির্মাণকাজ শুরু হলেও এখনো শেষ হয়নি। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় অবশিষ্ট কাজ কীভাবে শেষ হবে, তা নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এর আগে আশাশুনির ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নামমাত্র কাজ করে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্য দেব সরকার এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী বাপ্পী কুমার দাসের বিরুদ্ধে খুলনা বিভাগীয় এলজিইডির তদন্ত দল সরেজমিন অনুসন্ধান চালায়। অভিযোগ ওঠার পর অনিন্দ্য দেব সরকারকে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় তাৎক্ষণিক বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) করা হয়। পরে পরিবার ও সন্তানদের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বদলির আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করান। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার পর তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে শাস্তিমূলকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্য দেব সরকার। তিনি বলেন, প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিদ্যালয়গুলোর নির্মাণকাজ নিয়ম মেনেই সম্পন্ন করা হয়েছে এবং প্রাক্কলন অনুযায়ী বিল পরিশোধ করা হয়েছে। সরকারি অর্থ আত্মসাতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বদলি স্থগিতের আবেদনে ভুল তথ্যের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, এটি টাইপিংজনিত অনিচ্ছাকৃত ভুল। তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও প্রমাণ জমা দেওয়া হয়েছে এবং বিভাগীয় তদন্তেই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে গুণগত মান নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটিকে কাজ যথাযথভাবে বুঝে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী এ. এস. এম. তারিকুল হাসান খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর