মাহফুজুর রহমান বিপ্লব, ফরিদপুর
ফরিদপুর সদর উপজেলায় সরকারি বিশেষ কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমে ফসলের ফলন বাড়ানোর লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের মাঝে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্নত জাতের সবজি বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কর্মসূচির শুভ সূচনা করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই ২০২৬) সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ফরিদপুর সদর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। জমকালো এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপস্থিত মেহনতি কৃষকদের হাতে সরাসরি প্রণোদনার সামগ্রী তুলে দেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ।
বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃষকদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথি চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ বলেন, “আমাদের ফরিদপুরের অক্লান্ত পরিশ্রমী মেহনতি কৃষকদের পাশে সশরীরে দাঁড়ানো এবং গ্রামীণ কৃষি উৎপাদনকে আরও বেশি গতিশীল ও বেগবান করাই আমাদের মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এই সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় প্রান্তিক চাষিরা সরাসরি উপকৃত হবেন। একই সাথে দেশের সামগ্রিক খাদ্য সুরক্ষাবলয় আরও বেশি সুদৃঢ় ও শক্তিশালী হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”
সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, সরকারের এই সময়োপযোগী কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির ফলে একদিকে যেমন কৃষকদের ব্যক্তিগত ফসল উৎপাদন খরচ অনেকটাই কমে আসবে, ঠিক তেমনি অন্যদিকে দেশের সবজি উৎপাদন বৃদ্ধি ও সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দেশের চাষিদের আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি তাদের ফলন বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকারের এ ধরনের জনকল্যাণমূলক সহায়তার ধারা ভবিষ্যতেও পুরোদমে অব্যাহত থাকবে।
বিশেষ এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া। অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের বিভিন্ন স্তরের বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ফরিদপুরের বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা বিপুল সংখ্যক প্রান্তিক কৃষক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষভাগে উপস্থিত সকল ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের হাতে বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রকার সবজি বীজ ও প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত আলোচক ও অতিথিবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এই সরাসরি কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির সুফল হিসেবে ফরিদপুর অঞ্চলে ফলন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং প্রান্তিক কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এটি একটি ইতিবাচক ও যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।