ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণের তাণ্ডব; মাঝপথে থামল কক্সবাজারের ট্রেন, দুর্ভোগে যাত্রীরা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৭ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৭:১১ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ টানা বর্ষণ ও এর ফলে সৃষ্ট তীব্র জলাবদ্ধতার কারণে রেললাইনের ওপর ব্যাপক পানি জমে যাওয়ায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজারগামী আন্তঃনগর ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনটির যাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের জানজটপূর্ণ ষোলশহর স্টেশন এলাকায় রেললাইন সম্পূর্ণভাবে পানির নিচে তলিয়ে গেলে রেলওয়ে কতৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। লাইনের ওপর পানির উচ্চতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল সচল রাখা কোনোভাবেই সম্ভব হয়নি।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি ষোলশহর স্টেশন এলাকা অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। ঠিক ওই মুহূর্তে আকস্মিক ভারী ও তীব্র বৃষ্টির ফলে রেললাইনের ওপর অনেক উঁচুতে পানি জমে যায়। এই অবস্থায় ট্রেনটি সামনে এগিয়ে নিলে ট্রেনের মূল ইঞ্জিনে সরাসরি পানি প্রবেশ করে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়া কিংবা ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে বড় কোনো দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে লোকোমোটিভ মাস্টার বা চালক তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেনটি থামিয়ে দিতে বাধ্য হন। এর পর থেকেই শত শত পর্যটক ও যাত্রীসহ ট্রেনটি ওই এলাকায় আটকা পড়ে আছে।

বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে রেলওয়ের দায়িত্বশীল এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, ট্রেনের শত শত সাধারণ যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তা ও ট্রেনের সুরক্ষার কথা সর্বোচ্চ বিবেচনা করেই ট্রেনটি বর্তমানে ষোলশহর এলাকায় থামিয়ে রাখা হয়েছে। রেলওয়ের প্রকৌশলীরা প্রতিনিয়ত মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। রেলওয়ে কন্ট্রোল রুম থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওই রুটে ট্রেন চলাচল আপাতত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি না কমা পর্যন্ত কোনো ট্রেনকে এই লাইন দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না।

এদিকে মাঝপথে হঠাৎ ট্রেন থামিয়ে দেওয়ার ফলে সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজারগামী সাধারণ যাত্রীরা এই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে চরম ও অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে ট্রেনের ভেতরে থাকা নারী ও শিশুদের নিয়ে অনেকে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করছেন। কারণ চারপাশেই তখন থৈ থৈ করছিল পানি। যাত্রীদের এই দুর্ভোগ ও ভোগান্তি কিছুটা কমাতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের জরুরি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে আরেকটি শক্তিশালী উদ্ধারকারী ইঞ্জিন এনে ট্রেনটিকে পুনরায় উল্টো বা পেছনে টেনে নিয়ে প্রধান চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে ফিরিয়ে নেওয়ার জোর প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া চলছে। তবে রেলওয়ে কতৃপক্ষ আশ্বস্ত করে জানায়, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে এবং যাত্রীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের কারিগরি টিম সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর