মোহাম্মদ বাকি অনিক:
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় ধর্ষণচেষ্টার একটি মামলার আসামি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত ও নিরাপত্তা চেয়ে আদালতের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
মামলার বাদী রহিমা বেগম দাবি করেন, অভিযুক্ত মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির (৪২) জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে বিভিন্নভাবে তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার। বর্তমানে তারা নিজ বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছেন না বলেও অভিযোগ করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৭ জুন ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বুড়িচং উপজেলার বাড়াইর মধ্যপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে সুমাইয়া আক্তার তিন্নি (১৮)-এর সঙ্গে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়। তিনি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও রহিমা বেগম দম্পতির মেয়ে এবং বাড়াইর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময় প্রতিবেশী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, মৃত আব্দুল করিম-এর ছেলে, ঘরে প্রবেশ করে ভুক্তভোগীকে আপত্তিকর প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি না হলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয় শাহপরান হোসেন রাজিব ও সালাউদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্ত পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরদিন ৮ জুন ২০২৬ ভুক্তভোগীর মা রহিমা বেগম বুড়িচং থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ওই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়। একই দিন ভোরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিজ বাড়ি থেকে মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বাদীপক্ষের দাবি, অভিযুক্ত ১৭ দিন কারাভোগের পর আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। এরপর থেকেই তিনি ও তার সহযোগীরা বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন। এ কারণে পরিবারটি আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
ভুক্তভোগীর মামা গণমাধ্যমকে বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তারা।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেবপুর ফাঁড়ির এসআই আলমগীর জানান, ভুক্তভোগীর জবানবন্দিসহ মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে বলে তিনি মনে করছেন। আগামী সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।