ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

কুড়িগ্রামে বিস্ময় বালিকা: ৩ যমজ বোনের একযোগে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি জয়


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৩ জুলাই, ২০২৬ সময় : ১২:২০ পিএম

মেধা আর ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে যেকোনো বাধা জয় করা যায়, তার এক অনন্য ও চোখধাঁধানো দৃষ্টান্ত স্থাপন করল কুড়িগ্রামের যমজ তিন বোন। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে তারা একযোগে মেধা তালিকায় শীর্ষস্থান তথা ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়ার এক বিরল নজির গড়েছে। এই তিন কৃতি শিক্ষার্থী হলেন—তাহিয়া রহমান, তাকিয়া রহমান এবং তাবিয়া রহমান। আপন তিন বোনের এই অভাবনীয় ও যুগপৎ সাফল্যে পুরো কুড়িগ্রাম জেলা জুড়ে এখন বইছে আনন্দের বন্যা। তাদের এই অর্জন প্রমাণ করেছে যে, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য আর পরিবারের সঠিক পরিচর্যা থাকলে মেধার বিকাশ অবশ্যম্ভাবী।

এই তিন যমজ বোন কুড়িগ্রাম জজকোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট তারিকুর রহমান তারিক এবং গৃহিণী শাহিনা আকতারের সন্তান। তারা কুড়িগ্রাম পৌর শহরের টেক্সটাইল মোড় এলাকার বাসিন্দা। মেধার এই লড়াইয়ে তাহিয়া রহমান ও তাকিয়া রহমান কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে এবং তাবিয়া রহমান অর্জুনডারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এই অভূতপূর্ব কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পা রাখা এই তিন বোনের মধ্যে তাহিয়া ও তাকিয়া কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে এবং তাবিয়া কুড়িগ্রাম বর্ডার গার্ড স্কুলে নিজেদের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

নিজেদের এই খুশির ক্ষণে তিন বোন জানায়, তাদের এই সুন্দর ফলাফলের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তাদের বাবা-মায়ের। তারা সব সময় পড়াশোনার প্রতি বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন এবং প্রতি পদক্ষেপে নিয়মিত উৎসাহ ও মানসিক শক্তি জুগিয়েছেন। এছাড়া নিজ নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্তরিক ও নিবিড় দিকনির্দেশনা এবং পরিবারের সর্বাত্মক সমর্থনের ফলেই তারা এই গৌরবময় সাফল্য ছিনিয়ে আনতে পেরেছে। ভবিষ্যতেও এই মেধার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে তারা এবং দেশের মানুষের কাছে দোয়া চেয়েছে।

সন্তানদের এমন সাফল্যে আবেগাপ্লুত বাবা অ্যাডভোকেট তারিকুর রহমান তারিক বলেন, তিন কন্যার একসঙ্গে সর্বোচ্চ গ্রেডে বৃত্তি পাওয়া একজন বাবার জন্য জীবনের অন্যতম সেরা আনন্দ ও পরম গর্বের মুহূর্ত। এই খুশির দিনে তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। একই সাথে তিনি এই অসাধারণ সাফল্যের মূল কৃতিত্ব তাদের মা শাহিনা আকতারের কাঁধে তুলে দিয়ে বলেন, মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম, অসীম ধৈর্য, তিল তিল ত্যাগ ও স্নেহময় পরিচর্যা ছাড়া এই অর্জন কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। পাশাপাশি তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতিও বিনম্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. গোলেনুর বেগম এই বিষয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, যমজ তিন বোনের এই চোখঝলসানো সাফল্য আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গৌরব ও সুনামের বিষয়। বিশেষ করে আমাদের বিদ্যালয় থেকে অংশ নেওয়া দুই শিক্ষার্থীর এই অভাবনীয় ট্যালেন্টপুল বৃত্তি লাভ স্কুলের অন্য ছাত্রীদেরও পড়াশোনায় আরও মনোযোগী ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হতে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে। মেধা ও অধ্যবসায়ের এই মেলবন্ধন কুড়িগ্রামের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিষ্ঠার সাথে এগিয়ে যাওয়ার নতুন আলোর দিশা দেখাবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর