মোঃ বাকি অনীক, কুমিল্লা প্রতিনিধি
এসএসসি পরীক্ষার খাতা পরীক্ষক নিজে মূল্যায়ন না করে তার স্কুলের এক ছাত্রকে দিয়ে দেখানোর এক চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লার দেবিদ্বারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই জালিয়াতির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এই গুরুতর অপরাধের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং খাতা মূল্যায়নকারী ওই ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার (১৩ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এক দাপ্তরিক বার্তার মাধ্যমে এই আইনগত ব্যবস্থার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অতি সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যম এবং ফেসবুক-ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গোপন ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একজন পাবলিক পরীক্ষার নির্ধারিত পরীক্ষক নিজে উত্তরপত্র নিরীক্ষণ না করে তার একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রকে দিয়ে খাতা মূল্যায়ন করাচ্ছেন এবং নম্বর দেওয়াচ্ছেন। ভিডিওটি সরকারের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টিগোচর হওয়ামাত্রই বর্তমান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই বিষয়ে অতি দ্রুত এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জরুরি ও কড়া নির্দেশনা প্রদান করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলাধীন আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক তথা বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের বিপুল পরিমাণ উত্তরপত্র (খাতা) কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে মূল্যায়নের জন্য নিয়ে এসেছিলেন। তবে তিনি বোর্ডের নিয়ম ও নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে সেই খাতাগুলো নিজে না দেখে তার নিজের স্কুলের ছাত্র মেহেদী হাসানকে দিয়ে দেদারসে মূল্যায়ন করাচ্ছিলেন। মন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনার পর, গত শনিবার কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাদী হয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া ও ওই স্কুলের ছাত্র মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে দেবিদ্বার থানায় একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন।
আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ এর ১০, ১২ ও ১৩ ধারায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার পরপরই দেবিদ্বার থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ওই রাতেই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া এবং ছাত্র মেহেদী হাসানকে তাদের নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পরীক্ষকদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও সতর্কতা বিরাজ করছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি করতে পুলিশ ঘটনার অধিকতর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।