ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অন্যতম প্রবেশদ্বার ও মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট আশুগঞ্জে পৃথক দুটি অত্যন্ত সফল ও ঝটিকা মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা এলাকায় চালানো এই জোড়া অভিযানে পাচারকালে সর্বমোট ৩০ কেজি ওজনের কাঁচা গাঁজা এবং ২০ বোতল নিষিদ্ধ ফেন্সিডিল সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সাথে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি বিলাসবহুল প্রাইভেটকার ও একটি বাণিজ্যিক পিকআপ ভ্যান জব্দ করার পাশাপাশি মাদক চোরাচালানের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার হাতেনাতে প্রমাণসহ তিনজন পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আজ সোমবার (১৩ জুলাই) ভোররাত ও সকালে এই পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে আশুগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস দল।
আশুগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণে জানা গেছে, সোমবার ভোররাত সোয়া ৩টার দিকে সুনির্দিষ্ট কিছু গোপন ও বিশ্বস্ত সংবাদের ভিত্তিতে আশুগঞ্জ থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল মহাসড়কের টোলপ্লাজা এলাকায় একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে কড়া পাহারা ও তল্লাশি শুরু করে। এ সময় সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা একটি সন্দেহভাজন প্রাইভেটকারকে থামার সংকেত দেয় পুলিশ। গাড়িটি থামার পর সেটিতে নিখুঁতভাবে তল্লাশি চালিয়ে ভেতর থেকে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ২০ বোতল ক্ষতিকর ফেন্সিডিল সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এই অবৈধ মাদক বহনের দায়ে যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার মোরাগাছা মদনপুর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মো. আবু কালামকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে পুলিশ এবং মাদক বহনের দায়ে প্রাইভেটকারটি তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়।
এর ঠিক কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে, অর্থাৎ একই দিন সকাল সোয়া ৮টার দিকে একই টোলপ্লাজা এলাকায় দ্বিতীয় সফল অভিযানটি পরিচালনা করে পুলিশ। এবার মহাসড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় একটি সন্দেহভাজন বাণিজ্যিক পিকআপ ভ্যানকে গতিরোধ করে আটক করে পুলিশের টহল দল। পরবর্তীতে ওই পিকআপ ভ্যানের পেছনে থাকা মালামালের স্তূপ ও বডি ওলটপালট করে তল্লাশি চালিয়ে লুকানো অবস্থায় মোট ৩০ কেজি উন্নত মানের গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এই বিশাল মাদক চালানের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পিকআপ ভ্যানে থাকা কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার মাঝির কোনা এলাকার বাসিন্দা মো. বাবুল মিয়া এবং একই জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার বীর কাশিমনগর এলাকার বাসিন্দা মো. রোকন ইসলামকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এই জোড়া মাদকবিরোধী অভিযানের সার্বিক সাফল্য নিশ্চিত করে ঢাকাটুডেকে জানিয়েছেন, মহাসড়ক দিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাদক পাচারের এই দুটি বড় চালান সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ গাঁজা, ফেন্সিডিল সিরাপ এবং মাদক বহনের কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার ও পিকআপ ভ্যানটি সম্পূর্ণ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ধৃত তিন মাদক চোরাচালানির বিরুদ্ধে আশুগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট কঠোর ধারায় পৃথক দুটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জেলাকে মাদকমুক্ত করতে মহাসড়কের এই বিশেষ চেকপোস্টে পুলিশের তল্লাশি ও কঠোর নজরদারি আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে থানা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।