সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 25
ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
বৃহত্তম মৎস্য ভাণ্ডার চলনবিল অঞ্চলের দেশীয় প্রজাতির সুস্বাদু মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্যকে পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও বৃহত্তর নওগাঁ হাটে সরকারিভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও অবৈধ কারেন্ট জাল এবং সর্বগ্রাসী চায়না দুয়ারী রিং জালের রমরমা বেচাকেনা চলছে। প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বসা এই বিশাল ও ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ সাপ্তাহিক হাটে স্থানীয় হাট কমিটিকে সুকৌশলে ম্যানেজ করে প্রকাশ্য দিবালোকে লাখ লাখ টাকার এই ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ ফাঁদ দেদারসে বিকিকিন হচ্ছে বলে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। নতুন বর্ষার আগমনে চলনবিলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করায় স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা সৌখিন ও পেশাদার মৎস্য শিকারিরা এই নিষিদ্ধ জাল কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা এক শ্রেণীর অসাধু মহলের সাথে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে নওগাঁ হাটের পশ্চিম পাশে প্রতি বৃহস্পতিবার এই অবৈধ বাণিজ্যের বিশাল পসরা সাজানো হচ্ছে, যা চলনবিলের মৎস্য সম্পদের ভবিষ্যৎ অস্তিত্বকে এক মহা সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
সরেজমিনে ওই সাপ্তাহিক হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটের পশ্চিম দিকে বড় এলাকাজুড়ে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও সুক্ষ্ম সুতার তৈরি সর্বগ্রাসী চায়না দুয়ারী রিং জাল স্তূপ করে সাজিয়ে রেখে প্রকাশ্যে হাঁকডাক দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে মাছ ধরার জন্য মৎস্য শিকারিদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে এই জালের দোকানগুলোতে। সচেতন স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এই জালের জালিকা এতটাই সুক্ষ্ম যে এতে নদীর তলদেশের কাঁকড়া, ব্যাঙ, পোনামাছসহ যেকোনো ছোট জলজ প্রাণী একবার আটকে গেলে আর বের হতে পারে না। ফলে এই সর্বগ্রাসী জাল ব্যবহারের কারণে চলনবিলের ঐতিহ্যবাহী দেশীয় মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং পোনা মাছসহ সামগ্রিক জলজ জীববৈচিত্র্য চিরতরে বিলুপ্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
নওগাঁ হাটে প্রকাশ্যে এমন ভয়াবহ অবৈধ পণ্যের বাণিজ্য চলার বিষয়ে জানতে চাইলে হাট কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু নিজের দায় এড়িয়ে ঢাকাটুডেকে বলেন, “এই ঐতিহ্যবাহী হাটে প্রতি সপ্তাহে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। বিশাল এই ভিড়ের মধ্যে কে বা কোন ব্যবসায়ী লুকিয়ে এই নিষিদ্ধ ও অবৈধ জাল বিক্রি করছে, তা সবসময় আমাদের পক্ষে খেয়াল রাখা বা মনিটরিং করা সম্ভব হয় না। তবে হাট কমিটির পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অবৈধ বা সরকারিভাবে নিষিদ্ধ জিনিসপত্র বিক্রিতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা করার কোনো প্রশ্নই আসে না।”
অন্যদিকে, এই জালের ক্ষতিকর প্রভাব ও আইনি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন স্পষ্ট করে বলেন, “কারেন্ট ও চায়না দুয়ারী রিং জাল দেশের মৎস্য আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা এই ধরনের জালের ব্যবহার ও বিক্রি বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে আসছি।” এ বিষয়ে তাড়াশের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি অবৈধ কারেন্ট ও চায়না দুয়ারী জাল বিক্রির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে ঢাকাটুডেকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, “নওগাঁ হাটে নিষিদ্ধ জাল বিক্রির বিষয়টি আমি অবগত হলাম, বিষয়টি আমরা কঠোরভাবে দেখছি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”