পান্থনিবাস বড়ুয়া, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী ও রাঙ্গুনিয়া সীমান্তবর্তী কর্ণফুলী নদীর উত্তাল স্রোতে ভেসে আসা জ্বালানি কাঠ বা লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া সোলাইমান নামের এক যুবকের করুণ সলিল সমাধি ঘটেছে। নদীর পানিতে তলিয়ে যাওয়ার দীর্ঘ দুই দিন পর নদী থেকে তাঁর নিথর মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ উদ্ধারকারী দল। আজ সোমবার (১৩ জুলাই) সকালের দিকে বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা ইউনিয়নের অন্তর্গত ভান্ডালজুড়ি এলাকায় কর্ণফুলী নদীর বুকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। আকস্মিক ও মর্মান্তিক এই মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের গ্রামের বাড়ি রাঙ্গুনিয়ায় স্বজনদের মাঝে শোকে মাতম চলছে।
নিহত সোলায়মান চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের এক স্থায়ী বাসিন্দা। পাহাড় ও নদীর বৈরী আবহাওয়ার মাঝে এই অকাল প্রয়াণে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, গত শনিবার (১১ জুলাই) সকালের দিকে রাঙ্গুনিয়া সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীর পাড়ে পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে ভেসে আসা লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন সোলেমান। উজান থেকে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি কাঠ নদীর তীরে আটকে থাকায় তিনি তা টেনে তোলার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির কারণে নদীতে এ সময় পানির উচ্চতা ও তীব্র স্রোত ছিল আকাশচুম্বী। একপর্যায়ে নদীর পাড় থেকে ভারসাম্য হারিয়ে তীব্র পানির টানে তিনি নদীর অতল গভীরে তলিয়ে যান। ওই সময় নদীর পাড়ে থাকা অন্য মানুষজন তাঁর বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শুনে দ্রুত উদ্ধারের জন্য এগিয়ে আসলেও, পাহাড়ি ঢলের পানির বেগ ও স্রোতের গতি অস্বাভাবিক বেশি থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সাঁতরে তাকে টেনে তোলা সম্ভব হয়নি। চোখের পলকেই তিনি নদীর স্রোতে হারিয়ে যান। সোলায়মান নিখোঁজ হওয়ার খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তাঁর সন্ধানে কর্ণফুলী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। দীর্ঘ দুই দিন নদীর তলদেশে ও উপরিভাগে চিরুনি তল্লাশি চালানোর পর আজ সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন কর্ণফুলী নদীর ভান্ডালজুড়ি অংশে একটি মরদেহ ভেসে থাকতে দেখেন। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা দ্রুত গিয়ে লাশটি ডাঙায় তুলে আনে।
এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ও সফল উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের রাঙ্গুনিয়া স্টেশন এর টিম লিডার জাহেদুর রহমান ঢাকাটুডেকে বিস্তারিত নিশ্চিত করে বলেন, “নদীতে যুবক নিখোঁজের খবর পাওয়া মাত্রই আমাদের উদ্ধারকারী ও ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তীব্র স্রোতের কারণে প্রথম দিকে কিছুটা বেগ পেতে হলেও, অবশেষে আজ সোমবার সকালে কর্ণফুলী নদীর ভান্ডালজুড়ি এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় সোলাইমানের মরদেহটি আমরা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। উদ্ধারকাজের পর স্থানীয় থানা পুলিশের সহায়তায় প্রয়োজনীয় আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে নিথর মরদেহটি দাফনের জন্য তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।”