নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় দাবিকৃত মোটা অঙ্কের চাঁদা না পেয়ে ‘পাভেল এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকের সামনে জোরপূর্বক বালু ফেলে অবরুদ্ধ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আয়নাল হক নামের স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে এভাবে বালু ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও বাঁধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ব্যবসায়ী, তাঁর স্ত্রী ও আত্মীয়-স্বজনদের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত ও বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। এই সঙ্ঘবদ্ধ হামলায় ব্যবসায়ী নয়ন মোল্লা (৫৮) ও তাঁর স্ত্রী পারভীন সুলতানাসহ একই পরিবারের অন্তত ১০ জন গুরুতর রক্তাক্ত ও আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) সকালের দিকে রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভার অন্তর্গত বরাব এলাকায় এই প্রকাশ্য চাঁদাবাজি ও রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত আয়নাল হক স্থানীয় তারাব পৌর ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের বর্তমান সহ-সভাপতি বলে রাজনৈতিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী ও আহত ব্যবসায়ী নয়ন মোল্লা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ঢাকাটুডেকে বলেন, “পৌর যুবদল নেতা আয়নাল হক ও তাঁর অনুসারীরা বেশ কিছুদিন যাবৎ আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। আমি তাদের এই অন্যায় ও অবৈধ চাঁদা দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করায় তারা চরম ক্ষিপ্ত হয়। এরই জেরে গত রবিবার ভোরে তারা আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে বিপুল পরিমাণ বালু ফেলে পুরো পথটি বন্ধ করে রাখে। সোমবার সকালে খবর পেয়ে আমি, আমার স্ত্রী এবং আমাদের আত্মীয়-স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এই অন্যায় কাজে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করি। এতে আয়নাল হকের নেতৃত্বে একদল ক্যাডার দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের হামলায় আমি, আমার স্ত্রী পারভীন সুলতানা, মোমেন, সুমন, রোকন, হাসান ও জাকারিয়াসহ আমাদের পরিবারের ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছি। আমরা প্রশাসনের কাছে এই প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটা হামলার সুনির্দিষ্ট ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
আহত ব্যবসায়ী পত্নী পারভীন সুলতানা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে যুবদল নেতা আয়নাল আমার স্বামীর কাছ থেকে জোরপূর্বক ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। আমরা সেই চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তারা আমাদের রুটি-রুজির দোকানপাটের সামনে বালু ফেলে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়। এতে আমার স্বামী বাঁধা দিলে তারা আমার ওপর এবং আমার পরিবারের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে। প্রকাশ্য বাজারে একজন নারীর ওপর এভাবে হামলার ঘটনার আমরা কঠোর বিচার দাবি করছি।” তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই গুরুতর চাঁদাবাজি ও নৃশংস হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা আয়নাল হক। তিনি এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে ঢাকাটুডেকে বলেন, “আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে এই নাটক সাজিয়েছে। আমার নামে যে চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচ এমএ সালাউদ্দিন মুঠোফোনে ঢাকাটুডেকে জানান, “তারাব পৌরসভার বরাব এলাকার এই মারামারির ঘটনাটি আমরা অবগত হয়েছি। তবে এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ বা মামলা প্রাপ্তিমাত্রই আমরা তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আইনি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”