সারাদেশে সব শিক্ষা বোর্ডের চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা, প্রশ্নপত্রের ভুলের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের নতুন প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড দ্রুত দেওয়াসহ ৩ দফা দাবিতে এবার বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন সাধারণ পরীক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা ১১টা থেকে নগরের মুরাদপুর এলাকায় অবস্থিত চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের এই অবরোধের কারণে সিডিএ অ্যাভিনিউ সড়কের এক পাশের গুরুত্বপূর্ণ লেনে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনকারী সাধারণ পরীক্ষার্থীরা জানান, দেশের বিভিন্ন জেলায় চলমান তীব্র বন্যা ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে হাজার হাজার পরীক্ষার্থী গতকাল কোমর সমান পানি ও বৈরী আবহাওয়া মাড়িয়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বারবার পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তনের জোর দাবি জানানো হলেও শিক্ষা প্রশাসন তা কোনোভাবেই আমলে নেয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি ও মানসিক ট্রমা নিয়ে তাঁদের রাজপথে নামতে হয়েছে। শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট করে জানান, শুধু চট্টগ্রাম বোর্ড নয়, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সারাদেশে একযোগে চলমান পরীক্ষা অবিলম্বে স্থগিত রাখতে হবে। অন্যথায় তাঁরা শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে নতুন করে কঠোর আন্দোলন শুরু করার হুঁশিয়ারি দেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এইচএসসি পরীক্ষার্থী মো. ওমায়ের তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের দাবিগুলো অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। আমরা কেবল একটি নির্দিষ্ট বোর্ডের জন্য নয়, বরং সারাদেশে সবার জন্য অভিন্ন সুযোগ ও পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত চাই। একই সাথে পরীক্ষার প্রথম দিনেই প্রশ্নপত্রে যেসব মারাত্মক ভুলভ্রান্তি দেখা গেছে, তার সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বন্যার পানিতে অনেক সহপাঠীর রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে, সেগুলো বোর্ডকে অবিলম্বে সম্পূর্ণ ফ্রিতে নতুন করে সরবরাহ করতে হবে।
আজ দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কার্যালয়ের সামনে দুই শতাধিক বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এ সময় বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে কর্মকর্তারা যখন তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন, তখন শিক্ষার্থীরা সমস্বরে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে পুরো মুরাদপুর এলাকা উত্তাল করে তোলেন। অবরোধের তীব্রতায় সিডিএ অ্যাভিনিউ সড়কের ২ নম্বর গেট থেকে বহদ্দারহাটমুখী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং শত শত বাস ও যানবাহন দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে, যা সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে ফেলে।
পরবর্তীতে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল বোর্ডের ভেতরে গিয়ে কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসেন। এ সময় তাঁদের দাবিগুলো পূরণের বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব মোহাম্মদ জহিরুল হক। তিনি জানান, প্রশ্নপত্রে ভুলের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আন্তঃবোর্ড সমন্বয় কমিটি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া বন্যায় যেসব শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র বা মূল কাগজপত্র নষ্ট হয়েছে, তাঁরা বোর্ডে যোগাযোগ করামাত্রই কোনো ধরনের বিলম্ব ছাড়াই নতুন কাগজপত্র সরবরাহ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহেদুল ইসলাম জানান, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিক্ষা বোর্ড এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে মোতায়েন রয়েছে।