লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের গাজীনগর বাজারে ভুল ইনজেকশন প্রয়োগের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া আলোচনার পরপরই মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযোগের ঘটনার পর মঙ্গলবার গাজীনগর বাজারে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে দুটি ফার্মেসির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময় একটি প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার এবং অপরটিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সম্প্রতি টিটেনাস ইনজেকশনের পরিবর্তে অন্য একটি ইনজেকশন প্রয়োগের অভিযোগে এক কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দেয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ বিক্রির নিয়মকানুন মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় বিভিন্ন ওষুধের বিক্রয় কার্যক্রম, লাইসেন্স এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্সের ঘাটতির প্রমাণ পাওয়ায় ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর ৪০(ঘ) ও ৪০(গ) ধারায় দীপ্ত মেডিকেল হলকে ২০ হাজার টাকা এবং রিয়াদ ফার্মেসিকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। পরে উভয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন রায়পুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিগার সুলতানা। তিনি অভিযানের সময় ওষুধ বিক্রিতে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
মোবাইল কোর্ট চলাকালে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মামুনুর রশিদ, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের লক্ষ্মীপুর জেলা কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক এবং রায়পুর থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা অভিযানের বিভিন্ন কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাইয়ে অংশ নেন।
এ সময় দীপ্ত মেডিকেল হলকে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের মালিককে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, অনুমোদনপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে পরদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে আইন মেনে কার্যক্রম পরিচালনা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত থাকবে। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি, লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা কিংবা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিগার সুলতানা বলেন, জনস্বার্থ রক্ষায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং বাজার তদারকি ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে অনিয়মের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না এবং আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।