ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

হেমায়েত বাহিনীর গ্রেপ্তার দাবিতে সাতক্ষীরায় সংবাদ সম্মেলন


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৪ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৭:১৭ পিএম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জমি ও মৎস্যঘের দখল, সরকারি নারী কর্মীকে ধর্ষণের চেষ্টাসহ একাধিক মামলার আসামি এবং চিহ্নিত ‘হেমায়েত বাহিনী’র গুন্ডাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সাথে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সাতক্ষীরা শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের শহীদ মিনারের পাদদেশে অত্যাচারের শিকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের দুদলী গ্রামের মৃত শেখ আজিজুর রহমানের কন্যা নাজমিন সুলতানা।
লিখিত বক্তব্যে নাজমিন সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, মথুরেশপুর ইউনিয়নের দুদলী গ্রামের মৃত মীর রমজান আলীর ছেলে সৈয়দ হেমায়েত আলী ছোট (বাবু) এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এলাকায় নানাবিধ অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ১০-১৫ জনের একটি সংগঠিত সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে এলাকায় তীব্র প্রভাব বিস্তার করছেন। এই বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে সাধারণ মানুষের জমি ও মৎস্যঘের দখল, চলাচলের রাস্তা বন্ধ, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদা দাবি করে আসছে। বর্তমানে সৈয়দ হেমায়েত আলী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তিদেরও মিথ্যা মামলায় ফাঁসাচ্ছেন। এতে এলাকার সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অনেকে ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

তিনি আরও বলেন, সৈয়দ হেমায়েত আলী অতীতে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য থাকাকালে সরকারি বিভিন্ন সুবিধা বিতরণে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও সরকারি সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগে এলাকায় বিতর্কিত ছিলেন। বর্তমানে তাঁর এসব অপকর্ম রাজনৈতিক দলটির ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারটি হেমায়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে হওয়া একাধিক মামলার বিবরণ তুলে ধরে। অভিযোগে জানানো হয়, গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে নাজমিন সুলতানার আপন ছোট বোন ও সরকারি পরিবার কল্যাণ সহকারী তানিয়া সুলতানাকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে আক্রমণ এবং ব্যাপক মারধর করেন সৈয়দ হেমায়েত আলী ও আওরঙ্গজেব। পরবর্তীতে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর কালিগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা (মামলা নং-১৫, তারিখ: ২০/০৫/২০২৬) রুজু হয়।

এর আগে, গত ২৫ এপ্রিল সাবেক সেনা সদস্য নাসির উদ্দীনের পরিবারের ওপর হামলা, চাঁদা দাবি এবং বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় আরেকটি মামলা (মামলা নং-২৫, তারিখ: ২৫/০৪/২০২৬) দায়ের করা হয়। এছাড়া গত বছরের ৮ অক্টোবর শেখ ফয়েজ আলী ও শেখ মজিদসহ কয়েকজন ব্যক্তি নাজমিন সুলতানার বাড়ির সামনের জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা অবরুদ্ধ করলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ এসে সাময়িক চলাচলের ব্যবস্থা করে। এ ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি নং-১২৬৫, তারিখ: ২৮/১২/২০২৫) করা হয়।

নাজমিন সুলতানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এত গুরুতর সব অভিযোগ ও মামলা থাকা সত্ত্বেও আসামিদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো আইনি পদক্ষেপ দৃশ্যমান হচ্ছে না। আসামিরা নিয়মিত প্রকাশ্যে এলাকায় ও থানার আশেপাশে চলাচল করলেও প্রশাসন তা দেখেও না দেখার ভান করছে।"

লিখিত বক্তব্যে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার পেছনে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার এসআই জহির রায়হানের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযোগ করা হয়, তিনি মামলার আলামত সংগ্রহ করেননি এবং মামলার গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো বাদ দিয়েছেন, যা সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে।

ন্যায়বিচার ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংবাদ সম্মেলন থেকে ৭টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়:
১. সৈয়দ হেমায়েত আলী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
২. দায়েরকৃত মামলাগুলোর সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা।
৩. তদন্তের স্বার্থে বিতর্কিত তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জহির রায়হানকে অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ করা।
৪. এলাকার সাধারণ মানুষের জানমাল ও চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধ করা।
৫. জনসাধারণের চলাচলের রাস্তাটি থেকে অবৈধ ঘেরা-বেড়া উচ্ছেদ করে পূর্বের ন্যায় উন্মুক্ত করা।
৬. অপরাধী হেমায়েতকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা।
৭. দলীয় শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষার্থে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল কর্তৃক প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন নাজমিন সুলতানার মেজো বোন শারমিন সুলতানা লাকী এবং বোন জামাই জাহাঙ্গীর আলম। ভুক্তভোগী পরিবারটি এই সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচতে এবং ন্যায়বিচার পেতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দেশের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর