রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নে একটি কাঁচা সড়কের পাশে নবনির্মিত গাইড ওয়াল রক্ষায় নিজ হাতে কোদাল নিয়ে কাজে নেমেছেন এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
ঘটনার নায়ক উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রাসেল মাহমুদ। বৃষ্টির মধ্যে মাথায় পলিথিন জড়িয়ে এবং খালি গায়ে কোদাল হাতে কাদার মধ্যে নেমে কাজ করার একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি প্রকাশের পর স্থানীয় বাসিন্দাসহ নেটিজেনরা তাঁর দায়িত্বশীলতা ও জনসেবামূলক মানসিকতার প্রশংসা করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাঁর কাজকে অনুসরণযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফেসবুকে এম এ মালেক নামে একজন মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে আপনার মতো একজন জনপ্রতিনিধি প্রয়োজন।”
মুঠোফোনে মো. রাসেল মাহমুদ জানান, তাঁর গ্রামের ফৈজদ্দিন মাতুব্বরপাড়ার একটি কাঁচা সড়কের ব্রিজসংলগ্ন দুই পাশের ঢালে প্রায় তিন দিন আগে প্রায় ১২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি ইটের গাইড ওয়াল নির্মাণ করা হয়। তবে নির্মাণ শেষে ওয়ালের ভেতরে মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়নি। ফলে ভারী বৃষ্টির কারণে ওয়ালটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
তিনি বলেন, সেদিন টানা বৃষ্টির কারণে শ্রমিকরা কাজে আসতে পারেননি। আবার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় গ্রামের অন্য কাউকে ডেকে এনে কষ্ট দিতে চাননি। এ অবস্থায় বৃষ্টির পানি যাতে ওয়ালের নিচ দিয়ে প্রবেশ করে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সে জন্য নিজেই কোদাল হাতে নিয়ে প্রয়োজনীয় মাটি ভরাটের কাজ করেন।
রাসেল মাহমুদ আশা প্রকাশ করে বলেন, সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়ায় গাইড ওয়ালটি এখন আর ভেঙে পড়ার আশঙ্কা নেই।
রাসেল মাহমুদের বড় ভাই ও শিক্ষক জহিরুল ইসলাম বলেন, ছোট ভাই যে বৃষ্টির মধ্যে একাই এমন কাজ করছে, বিষয়টি আগে তিনি জানতেন না। জানলে তিনিও কাজে অংশ নিতেন। ভাইয়ের এমন দায়িত্ববোধে তিনি গর্বিত বলেও মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন মৃধা বলেন, রাসেল মাহমুদ একজন দায়িত্বশীল ও কর্মঠ জনপ্রতিনিধি। তিনি প্রায়ই জনস্বার্থের বিভিন্ন কাজে নিজে উদ্যোগ নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। সমাজসেবামূলক কাজে তাঁর আন্তরিকতা অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় বলে মন্তব্য করেন চেয়ারম্যান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের হাতে মাঠে নেমে কাজ করার এই মানসিকতা জনসেবার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।